নেত্রকোনায় এক কিশোরীকে গণধর্ষণের দায়ে দুই ভাইসহ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম আবুল কাশেম এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কালডোয়ার গ্রামের শমশের আলী ওরফে মোকসেদ আলীর ছেলে মো. শামীম, মন্তোষ রংদির ছেলে ভিকন ও টিকন, নরেন্দ্র শেমার ছেলে তাপস ও বুদি গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে রূপ মিয়া। এদের মধ্যে শুধু রূপ মিয়া পলাতক। অন্য আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। এই মামলার অপর আসামি এখলাছ মিয়াকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এখলাছের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন আদালত।
আদালতের রায়ে গণধর্ষণের এই অপরাধকে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, লোমহর্ষক, হৃদয়বিদারক, বর্বরোচিত, অমানবিক ও সভ্য সমাজের জন্য আতঙ্ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জি এম খান পাঠান। রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী সুভাষ বণিক। তিনি জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালের ২০ জুলাই দুপুরে ওই কিশোরী তাঁর মায়ের সঙ্গে জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কালিকাবর গ্রামের বাড়ি থেকে পূর্বধলা উপজেলার সাতপাটি গ্রামের ভগ্নিপতির বাড়ি যাচ্ছিল। পথে তাঁদের বহনকারী রিকশাটি রাত ১১টার দিকে পূর্বধলা-হোগলা সড়কের স্থানীয় কুমারখালী সেতুতে পৌঁছালে দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা অস্ত্রের মুখে কিশোরীকে পাশের একটি ভবনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে এ ঘটনায় নির্যাতিত কিশোরী পূর্বধলা থানায় মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন