রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনাগুলোর দায় স্বীকার করে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে গতকাল মঙ্গলবার ‘পদ্মায় এমভি মোস্তফা লঞ্চডুবির দায়ভার কার?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ চারটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে। অপর তিনটি সংগঠন হলো বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশ ও সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্ট।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান বলেন, ‘লঞ্চডুবিতে প্রাণহানি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। সবকিছু দেখভাল করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু তারা বারবার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সব নৌ-দুর্ঘটনার দায় নিয়ে শাজাহান খানের অবিলম্বে পদত্যাগ করা প্রয়োজন। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক দেশ হলে মন্ত্রী আরও আগেই পদত্যাগ করতেন।’
সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আশীষ কুমার দে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১০ মাসে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর ১৭টি কমিটি গঠন করে। এমভি মোস্তফার বাইরে গঠিত ১৫টি কমিটির আটটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি। আর তদন্তের শেষ পর্যায়ে বিলুপ্ত করা হয় একটি কমিটি।
লিখিত বক্তব্যে এমভি মোস্তফা লঞ্চডুবির কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন এবং গত এক বছরে সংঘটিত সব নৌ-দুর্ঘটনার পুনঃতদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, এমভি মোস্তফা লঞ্চটির দুর্ঘটনার ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটি অসম্পূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট। কমিটির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
সভায় সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন, জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, গ্রিন ক্লাব বাংলাদেশের সভাপতি নুরুর রহমান সেলিম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন