নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে ইনুর 'ভাসমান' আলোচনা সভা

বিজ্ঞাপন
default-image

নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত ‘ভাসমান’ আলোচনা সভায় তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, অধিক মুনাফার লোভ, আইন ভঙ্গ ও আইন প্রয়োগে গাফিলতির কারণে লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটছে। এটা মানুষ হত্যার শামিল।
আজ শনিবার দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘আজরা’ মোটর লঞ্চে নদী ও নিরাপত্তার সংগঠন ‘নোঙর’ আয়োজিত ‘নৌ-নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস যেহেতু এখন সকলের কাছে পৌঁছায়, তাই নৌ দুর্ঘটনা প্রকৃত অর্থে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ; উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌযানের সঠিক নির্মাণ, চালকের দক্ষতা, আবহাওয়া সংকেতানুসরণ, নদীপথের নাব্যতা নির্ণয় করে যাত্রাপথ নির্ধারণ এবং যাত্রী পরিবহনে নিয়মকানুন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
নোঙর এর চেয়ারম্যান সুমন শামসের সঞ্চালনায় ভাসমান আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। এ ছাড়াও সভায় অতিথি হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা বক্তব্য দেন।
দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংবাদিকেরা নোঙর প্রস্তাবিত ‘২৩ মে জাতীয় নৌ নিরাপত্তা দিবস’ হিসেবে দিবস পালনের সমর্থন দেন। তথ্যমন্ত্রী বিষয়টি নৌ পরিবহন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে উত্থাপন করবেন বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানান।

আলোচনা সভা শুরুর আগে ২৩ মে জাতীয় নৌ নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালনের দাবিতে নোঙর আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন তথ্য মন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা।
সভায় জানানো হয়, ২০০৪ সালের ২৩ মে মেঘনায় এমভি লাইটিং সান লঞ্চটি ডুবে প্রায় চার শত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার চার দিন পর শেষ উদ্ধারকৃত লাশটি ছিল সুমন শামসের (বর্তমান নোঙর প্রধান) মায়ের। সভার সঞ্চালক সুমন শামস বলেন, ‘আর কোনো মা যেন নদী থেকে লাশ হয়ে না ফেরে।’
এ ছাড়া আলোচনা সভা থেকে উত্তরবঙ্গ সফররত নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন নৌ পরিবহন মন্ত্রী আগামী ১৫ থেকে ২১ জুন নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের উদ্যোগের কথা তথ্যমন্ত্রীকে জানান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন