নোয়াখালীতে পৃথক দুটি মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে জেলা দায়রা জজ এবং নোয়াখালী বিশেষ দায়রা জজ আদালত পৃথক রায়ে এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের দুই ভাই জামাল উদ্দিন ও আবুল হাশেম, সোনাইমুড়ী উপজেলার বেলায়েত হোসেন ওরফে সাহাবউদ্দিন, শাহজাহান মিরাজ ওরফে হিরণ, জাহাঙ্গীর আলম ও নূরুল ইসলাম ওরফে নূর নবী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলার বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী (হক লাইব্রেরির মালিক) ফজলুল হককে ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্টেশন রোড থেকে ১২ লাখ টাকাসহ দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে। এ ঘটনার পর ফজলুল হকের বাবা সামছুল হক বাদী হয়ে জামাল উদ্দিন ও আবুল হাশেমকে আসামি করে থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগ এনে ৯ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা করেন।
মামলাটি প্রথম থানার পুলিশ, পরে সিআইডি তদন্ত করে। ১৯৯৭ সালের ৭ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক সন্তোষ কুমার কুণ্ডু জামাল উদ্দিন ও আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ নোয়াখালীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিরিন কবিতা আক্তার অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা; অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন। তবে জামাল উদ্দিন পলাতক।
২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে জেলার সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের তেমুহনীবাজার এলাকা থেকে যাত্রী সেজে চার ছিনতাইকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইয়াকুবকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। তারা অটোরিকশাটি ছিনতাই করে।
এ সময় ইয়াকুবের চিৎকারে এলাকাবাসী ঘেরাও করে দুই ছিনতাইকারী বেলায়েত হোসেন ও শাহজাহানকে আটক করেন। পরে আহত ইয়াকুবকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ইয়াকুব কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মেরকোট গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। এ ঘটনার পর অটোরিকশার মালিক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে বেলায়েত হোসেন ওরফে সাহাবউদ্দিন, শাহজাহান মিরাজ ওরফে হিরণ, জাহাঙ্গীর আলম ও নূরুল ইসলাম ওরফে নূর নবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে জেলা দায়রা জজ মো. আবদুল কুদ্দুস মিয়া অভিযুক্ত চার আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা; অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালতের রায় ঘোষণার সময় বেলায়েত হোসেন ও শাহজাহান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন এবং জাহাঙ্গীর আলম ও নূরুল ইসলাম পলাতক। দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির বাড়িই সোনাইমুড়ী উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন