অব্যাহত হুমকি ও সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার অভিযোগ এনে এবার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জসিম উদ্দীন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার একই উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। দুজনই স্থানীয় সাংসদের লোকজনের বিরুদ্ধে হুমকি–ধমকি ও হামলার অভিযোগ এনেছেন। আজ শনিবার চতুর্থ ধাপে রাউজানের ১৪ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হবে। ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে জসিম উদ্দীন গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে আমি আজ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারিনি। সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিদারুল আলমের পক্ষে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করছে। ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাই নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশসহ সবার কাছে ধরনা দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে সহযোগিতা করেনি। আমার একটা পোস্টার রাখেনি আওয়ামী লীগের লোকজন। এটা প্রহসনের নির্বাচন।’ এলাকার মানুষের পরামর্শ এবং জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন বলে জানান।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় জসিম উদ্দীনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। পরে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিদারুল আলম বলেন, ‘জসিম কৌশল করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে কিংবা তাঁর লোকজনকে কেউ হুমকি দেয়নি। তিনি তো নির্বাচনী মাঠেই নেই। হুমকি কে দেবে?’
দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ নেই রাউজানে। জসিমকে নোয়াপাড়ায় ঢুকতেই দেয়নি। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের দিন ভোট দিতে যাওয়ার নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। সেটিও দেওয়া হয়নি। তাই একতরফা এই নির্বাচন বর্জন করেছেন তিনি।’
আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, ‘রাউজানের বিনাজুরি ইউনিয়নে আমাদের প্রার্থী অমলেন্দু শীল এখন পর্যন্ত নির্বাচনে আছেন। তবে কাল (আজ) সকালে থাকতে পারবেন কি না, সেটা সময় বলে দেবে।’
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ বলেন, ‘উনি (জসিম) আমাকে লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। দিলে ব্যবস্থা নিতাম। আর উনি মৌখিকভাবেও আমাকে কোনো অভিযোগ করেননি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন