ফুলগাছ লাগানোর জন্য প্রায় ৫০টি ফলদ ও বনজ বৃক্ষ নিধন করা হয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নোয়াখালী কার্যালয়ে। বিউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে কমিটি গঠন ছাড়াই ওই গাছগুলো কাটা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ বৃক্ষ নিধনের কার্যক্রম চলে। এ নিয়ে বিউবোর কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাঁরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছেন।
তবে বিউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশ এসেছে কার্যালয়ের সীমানার ভেতরের বিভিন্ন গাছ কেটে সেখানে ফুলগাছ লাগানোর জন্য। তাই আগাছা গাছের সঙ্গে কয়েকটি ফলের গাছও কাটা পড়েছে। এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।’
সরেজমিনে বিউবোর নোয়াখালী কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে কুল, পেয়ারা, কাঁঠাল, মেহগনিগাছসহ বিভিন্ন গাছের কাটা গোড়া এবং কিছু ডালপালা এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।
কার্যালয়ের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে চলা বৃক্ষ নিধন কার্যক্রমে প্রায় ২০টি পেয়ারাগাছ, দুইটি কাঁঠালগাছ, চারটি কুলগাছসহ অন্তত ৫০টি ফলদ গাছ কাটা হয়েছে।
কর্মচারীরা জানান, সরকার ফলদ বৃক্ষ লাগানোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় তাঁরা গাছগুলো লাগিয়েছেন। প্রতিবছর এ গাছগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ফল পাওয়া যেত।
একাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি কার্যালয়ের সীমানার ভেতরের কোনো গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের মাধ্যমে কমিটি করে মতামত নিতে হয়। কিন্তু কার্যালয়ে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী কোনো কমিটি না করে নিজের খেয়াল-খুশিমতো ফলদ বৃক্ষগুলো কেটে সাবাড় করেছেন।
এ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল হক বলেন, গাছ কাটার জন্য কমিটি গঠনের বিষয়ে এরই মধ্যে বন বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিগগিরই আরও কিছু গাছ কাটতে হবে।
তবে গাছ কাটার আগে না পরে বন বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান নির্বাহী প্রকৌশলী।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন