নয় বছর পর কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মার্চ। এ নিয়ে চাঙা নেতা-কর্মীরা। ইতিমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কাউন্সিলরদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।
নেতা-কর্মীরা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে। তিন বছর মেয়াদি কমিটিতে তখন গিয়াস উদ্দিনকে সভাপতি ও আবু হায়দারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে শেখ কামালকে আহ্বায়ক করে নয় সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই আহ্বায়ক কমিটি পার করে আরও চার বছর। পরে ২০০৯ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সম্মেলন করার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরও সম্মেলন হয়নি। এরপর ২০১১ সালে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১১ সালের মে মাসে আবদুল মান্নানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করেন জেলার নেতারা। এরপর ওই কমিটি সম্মেলন করার লক্ষ্যে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। এরপর সম্মেলনের মাধ্যমে কুতুবজোম, বড় মহেশখালী, ধলঘাট ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করলেও পৌরসভা এবং পাঁচটি ইউনিয়নে সম্মেলন হয়নি। এখনো কার্যক্রম চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক শেখ কামাল বলেন, ‘সম্মেলন করার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের অসহযোগিতার কারণে সম্মেলন করতে পারিনি।’
দলীয় সূত্র জানায়, ৩ ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ইশতিয়াক আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান আগামী ৩ মার্চ উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সম্মেলনের আওতাধীন কোনো ইউনিয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিটে সম্মেলন অথবা নতুন কমিটি না করার জন্য আহ্বায়ক কমিটিকে নির্দেশ দেন।
নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, সম্মেলন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। এতে সভাপতি পদের জন্য ওয়াহিদুর রহমান, হালিমুর রশিদ, মকছুদুল করিম, এম এন মাসুদ, কায়সারুল ইসলাম ও মোবারেক হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রিয়ানুল ইসলাম, রহমত উল্লাহ, গিয়াস উদ্দিন ও মিফতাহুল করিম প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কতুবজোম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন বলেন, নয় বছর পর সম্মেলন হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে। আশা করছি নতুন কমিটি হলে মহেশখালীতে ছাত্রলীগের কার্যক্রম আরও চাঙা হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান বলেন, সম্মেলন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই উপজেলা ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা ডাকা হবে। বর্ধিত সভায় একটি পৌরসভা, আটটি ইউনিয়ন ও পাঁচটি স্কুল ও কলেজের কাউন্সিলরদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন