default-image

পঞ্চগড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটূক্তি করার মামলায় এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত পলাশ কুমার রায় (৩৭) আটোয়ারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হয়েছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালে ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের এক মামলায় র‌্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল।

সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এক মানববন্ধনে মাইকে পলাশ কুমার কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সোমবার বিকেলে সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করেন রাজিব রানা নামের স্থানীয় এক তরুণ। মামলায় বাদী নিজেকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ছাত্র ফেডারেশন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

অভিযুক্ত পলাশ রায় আটোয়ারী উপজেলা পরিষদের সদ্য বিদায়ী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মীরা রানী রায়ের ছেলে। গণমাধ্যম ও আদালতের তথ্য অনুযায়ী, পলাশ রায় ২০১৬ সালে বেসরকারি কোম্পানি কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের করা এক অর্থ আত্মসাতের মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন

মামলার বিবরণ ও পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, পলাশ কুমার রায় সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তাঁর বিরুদ্ধে করা কোহিনূর কেমিক্যালের মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে পরিবারের লোকজন নিয়ে অনশন শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে উঠে এসে পঞ্চগড় শের-ই-বাংলা পার্ক–সংলগ্ন মহাসড়কে এসে মানববন্ধন শুরু করেন। এ সময় মানববন্ধনে তিনি মাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে কটূক্তিসহ গালাগাল করেন এবং রাত ১২টার সময় জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যার হুমকি দেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই বক্তব্যের সময় আশপাশের লোকজন পলাশ রায়কে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর বিকেলে পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকার রাজিব রানা পলাশ কুমারের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। এই মামলায় মঙ্গলবার দুপুরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

পলাশ কুমার রায়ের মা মীরা রানী রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁর ছেলে কোহিনূর কেমিক্যালে একসময় আইন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন। চাকরিকালীন তাঁর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটা ঝামেলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ তাঁর বিরুদ্ধে ৩১ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের মামলা দেন। মীরা রানীর দাবি, ওই মামলার ফলে তাঁর ছেলের মানসিক অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। তাই তাঁরা ওই মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করতে আসছিলেন। মানববন্ধনে কোহিনূর কেমিক্যালের লোকজনের বিরুদ্ধে কথা বলার একপর্যায়ে ভুল করে তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দু-একটি কথা বলে ফেলেন।

মীরা রানী রায় আরও বলেন, ‘বংশীয়ভাবে আমরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। দলীয় সমর্থনেই আমি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। আমার স্বামী ৩৬ বছর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন (বছরখানেক আগে প্রয়াত)।’

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তি করায় মামলা দায়েরের আগেই পলাশ কুমার রায়কে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। মামলা হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

মামলার বাদী মো. রাজিব রানা বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য দিবালোকে মাইক দিয়ে একজন অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিল। বিষয়টি নাগরিক হিসেবে আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। এ জন্য আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন