পটুয়াখালীতে জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা

বিজ্ঞাপন
default-image

সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বুধবার পটুয়াখালীতে জোয়ারের সময় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ফসলি খেত।

এদিকে প্রবল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পটুয়াখালী শহরের নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল। সাগরে টিকতে না পেরে কিছু ট্রলার উপকূলে নিরাপদে আসতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

দুই দিন ধরে উপকূলীয় পটুয়াখালীতে কখনো হালকা, আবার কখনো ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর সঙ্গে জোয়ারের সময় নদ-নদীর পানিও বাড়তে থাকে।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস জানায়, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজমান থাকায় পটুয়াখালীতে কিছুটা বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। বুধবার সকাল থেকে থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি হচ্ছে। সাগর উত্তাল। পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর ও নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় বলে জানান জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাহবুবা খুশি।

আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার মোল্লা জানান, সাগরও নদ-নদীর পানি জোয়ারের সময় বাড়ছে। সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। কিছু মাছ ধরার ট্রলার সাগর থেকে উপকূলে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের নিউমার্কেট, হাসপাতাল এলাকা, শিমুলবাগ, নবাবপাড়া, এসডিও সড়কসহ নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে জোয়ারের সময় দুর্ভোগে পড়তে হয় এলাকার মানুষদের। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে প্লাবিত হয়েছে ফসলি খেত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে গতকাল জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চলের ফসলি খেত ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, জোয়ারের পানিতে খেত প্লাবিত হলেও ভাটায় পানি আবার নেমে যাচ্ছে। এতে আমন ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে যেসব খেতে শাকসবজির বীজ বপন করা হয়েছে, সেসব খেতের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বুধবার দুপুর ১২টার দিয়ে জোয়ারের সময় জেলার পায়রা, আগুনমুখা, আন্ধারমানিকসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

প্রচণ্ড বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পটুয়াখালী শহরের বেশ কিছু এলাকায় পানি জমে ছিল। শহর রক্ষা বাঁধের জলকপাট নিয়ন্ত্রণে কমিটি রয়েছে। তারা জলকপাট দিয়ে পানি নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন