বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৪ সদস্যের নাগরিক প্রতিনিধিদল গত ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর কয়েকটি রাখাইন জনপদ পরিদর্শন করে। এর মধ্যে আছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ছয়আনীপাড়া ও চৈয়াপাড়া, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তুলাতলীপাড়া ও মধুপাড়া, কুয়াকাটা পৌর এলাকার কেরানীপাড়া এবং লতাচাপলী ইউনিয়নের মিশ্রিপাড়া। পরিদর্শনের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

প্রতিনিধিদলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। তিনি বলেন, সারা দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নানাভাবে শোষণ, বঞ্চনা, ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। পটুয়াখালী অঞ্চলের রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রাখাইনরা প্রথম এ এলাকায় কুয়া খনন করেছিল, তাই এখানকার নাম হয়েছে ‘কুয়াকাটা’। অধিকাংশ রাখাইন আজ দেশান্তরি। শুধু সংখ্যালঘু নয়, তারা এখন সংখ্যাশূন্য হতে চলেছে।
রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ১৯৪৮ সালে পটুয়াখালীতে ১৪৪টি ও বরগুনায় ৯৩টি রাখাইনপাড়া ছিল। এখন সেখানে ২৬টি ও ১৩টি পাড়া টিকে আছে। এর মধ্যে সর্বশেষ যে রাখাইনপাড়া এ বছর নিশ্চিহ্ন হয়েছে, সেটি হলো ছয়আনীপাড়া। পায়রা বন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণের কবলে পড়ে পাড়াটি বিলুপ্ত হয়।

রাখাইনদের সব উৎসব ভূমিকেন্দ্রিক ছিল দাবি করে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, রাখাইনদের জমি, পুকুর, শ্মশানসহ সব দখল হয়ে যাওয়ায় নিজের ভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে তারা। জালিয়াতির মাধ্যমে জমি জবরদখল, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ও রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ক্রিয়তায় তারা ভূমি হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি সংগঠন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, রাখাইনদের এলাকায় না গেলে বোঝা যায় না তাদের পরিস্থিতি কত ভয়াবহ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর নানান উৎসব উদ্‌যাপিত হচ্ছে দেশে। কিন্তু আজ রাখাইনরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, স্বাধীনতার পর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের জমি দখল করা হয়েছে। তাদের নারীদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতার জন্যই এসব হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। গণতন্ত্র যদি শক্তিশালী হতো, তাহলে এসব নির্যাতন ও নিপীড়ন অনেক ক্ষেত্রে কমে যেত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মেইনথিন প্রমিলা সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি সংগঠন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। তিনি বলেন, ভূমি প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে অনেকে ভুয়া কাগজ বানিয়ে ভূমির দখল নিচ্ছে। বাংলাদেশের সব জেলায় জাল দলিল তৈরির কারখানা তৈরি হয়ে আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, এএলআরডির আজিম হায়দার প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন