বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: পদ্মায় প্রকাশ্যে ট্রলারে যাত্রী ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এগুলো কি বৈধ নৌযান?

মো. আসাদুজ্জামান: এই নৌযানের কোনো বৈধতা নেই। এখানে একটি বিষয় হলো, পদ্মায় নৌযান চলাচলের একটি সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লঞ্চ-স্পিডবোট চলবে। ফেরি তো আপাতত বন্ধই আছে। সন্ধ্যার পরে কোনো নৌযান চলার সুযোগ নেই। আর ট্রলার চলার তো প্রশ্নই আসে না।

অবৈধ নৌযান বন্ধে আপনাদের করণীয় কী?

মো. আসাদুজ্জামান: ট্রলার এখানে খেয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পদ্মার চরের মানুষেরা শুধু চরের এপার-ওপার যাতায়াত করেন। কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে, বিআইডব্লিউটিএ ট্রলারঘাট ইজারা দিয়ে রেখেছে। যদিও ইজারা নেওয়ার কারণ পণ্য পরিবহন বা মালামাল পরিবহন। কিন্তু সেখানে তারা যাত্রী ও মোটরসাইকেল পরিবহন করছে। এটি যে সঠিক হচ্ছে না, এর জন্য আমি নিজেই বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের আরও এক বছর আগে থেকেই জানিয়েছি ইজারাটি বাদ দেওয়ার বিষয়ে। কারণ, এখানে ট্রলারে পণ্য পরিবহনের নামে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। তারা ইজারার শর্ত ভঙ্গ করছে। তাই তাদের ইজারা বাতিল করতে হবে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

আমরা সরেজমিনে দেখেছি ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ের ঠিক সামনে প্রকাশ্যে ট্রলারগুলো চলছে। এগুলো বন্ধে ট্রাফিক পুলিশের কি কোনো দায়িত্ব নেই?

মো. আসাদুজ্জামান: ট্রাফিক পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ। তাদের চোখের সামনে নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে, এমন সবকিছুতেই তাদের দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি ঘাট ও নদীপথ দেখার জন্য নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ আছে। তাদেরও দায়িত্ব শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

ট্রাফিক পুলিশ নৌ পুলিশকে দোষারোপ করছে, আবার নৌ পুলিশ ট্রাফিক পুলিশকে দোষারোপ করছে। তাদের কাজ কী?

মো. আসাদুজ্জামান: নৌ পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে আমরা সব সময়ই বলি সন্ধ্যার পরে যেন কোনো নৌযান চলতে না পারে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে যেন নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়। এসব বিষয় আমাদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, অনুরোধ করা হচ্ছে। কঠোর নির্দেশনা দেওয়াও হচ্ছে। এরপরও আমরা দেখলাম রাতে ও দিনে ট্রলারে মানুষ, মোটরসাইকেল পারাপার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরস্পরকে দোষারোপ করে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সবাইকে মিলেই দায়িত্বটা ঠিকভাবে পালন করতে হবে।

পদ্মায় এর আগেও ট্রলার ও স্পিডবোট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। আবার এমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কার?

মো. আসাদুজ্জামান: যখন একটি দুর্ঘটনা ঘটে, তখন সবার দায়দায়িত্বের প্রশ্ন আসে। আসলে এই দায় কেউ এড়াতে পারে না। দুর্ঘটনা হলে এই দায় সবার আছে। এখানে যাত্রীদেরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। ঘাটে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যদি কারও দায়িত্বের মধ্যে না পড়ে, তাহলে যাঁর দায়িত্ব তাঁকে অবগত করে বা সহযোগিতা করে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

মো. আসাদুজ্জামান: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন