default-image

আমি ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়ি। বাসায় একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকা আসত। আব্বা বলতেন, খবরের কাগজ পড়বে। জ্ঞান বাড়বে, নতুন নতুন শব্দ শিখবে, লিখতেও শিখবে। সে-ই যে খবরের কাগজ পড়তে শুরু করেছি, এখন আমার বয়স ৭৬ বছর। এখনো পড়েই চলেছি। ফজরের নামাজ শেষ করে বিস্কুট দিয়ে চা শেষ করেই টেবিলে খবরের কাগজ না পেলে মন আনচান করে ওঠে।

এখন আমি অবসরে। হাতে অফুরন্ত সময়। একটি পত্রিকায় আর মন ভরে না। তাই তিনটি পত্রিকা পড়ি। বিভিন্ন পত্রিকার খবর যাচাই করি। এত দিনে কত পত্রিকা যে পড়েছি। কত পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথম আলো পাওয়ার পর থেকে এই পত্রিকার প্রেমেই পড়ে গেছি, বলা যায়।

৮ মার্চ বাংলাদেশে একজন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবরে উৎকণ্ঠা বেড়ে গেল। হৃদ্‌রোগ থাকায় এবং বুকে পেসমেকার
লাগানো থাকায় আমার ভয় একটু বেশি। যদি কিছু হয়, এই শঙ্কায় পরিবারের সবাই বলল, আমার বাইরে যাওয়া ঠিক নয়। বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল, তবে পত্রিকা পড়া নয়। কিন্তু যদি পত্রিকা বাসায় ভাইরাস বয়ে নিয়ে আসে, তাহলে তো রক্ষা নেই। ২৩ মার্চ থেকে পত্রিকাও বন্ধ হয়ে গেল।

বিজ্ঞাপন

পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচে না, পত্রিকা ছাড়া আমার অবস্থাও তেমনই করুণ। ৩১ মে লকডাউন তুলে নেওয়া হলো। দোকানপাট ও অফিস সাময়িক পরিসরে খোলা হলো। আমি বাসার বাইরে না গেলেও আবার পত্রিকা নিতে শুরু করলাম। একদিন প্রথম আলোয় বের হলো করোনাভাইরাস নিয়ে ডা. হিমেল ঘোষের লেখা। লেখাটি পড়ার পর আমার মনে হলো, পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় কি না, সেটি নিশ্চিতভাবে জানা প্রয়োজন। সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেলে পত্রিকা পড়া নিয়ে আর কারও কোনো দ্বিমত থাকবে না।

১৫ জুন ডা. হিমেল ঘোষকে আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি চিঠি লিখি। সে চিঠির আলোকে আরেকটি চিঠি প্রথম আলোর সম্পাদককে পাঠাই।

চিঠিটা এ রকম, ‘প্রতিদিন সকালে বিক্রয়কেন্দ্র থেকে যে পত্রিকা আমরা ক্রয় করি কিংবা বিক্রয় প্রতিনিধিরা বাসায় বাসায় গিয়ে যে পত্রিকা বিক্রয় করেন বা দেন, সে পত্রিকা কি করোনার ঝুঁকিমুক্ত? এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় কি না, তা মানুষের মনে জানার আগ্রহ রয়েছে। “পরনের কাপড়ে করোনার ঝুঁকি” লেখার মতো পত্রিকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় কি না, সে বিষয়ে একটি লেখা পাব আশা করি। কারণ, পত্রিকা করোনাভাইরাস ছড়ায়—এই অজুহাতে অনেকে পত্রিকা পড়া বন্ধ করেছেন। যাঁরাও–বা পড়েন, তাঁদেরও পত্রিকা কিনতে ও পড়তে পরিবার-পরিজন বারণ করছে। তাই এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞানসম্মত লেখা আশা করি।’

এরপর হঠাৎই ১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি লেখায় নানা তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয় যে করোনাভাইরাস কাগজে ছড়ায় না। পত্রিকা পড়ুন, এগিয়ে থাকুন।

সেই লেখায় আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম। পত্রিকা দেখিয়ে সবাইকে সেটি পড়তে অনুরোধ করলাম। আমাদের, তথা পাঠকদের মনে যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, প্রথম আলোর মাধ্যমে তা দূর হলো। নিশ্চিন্ত মনে আবার পত্রিকা ধরলাম।

এ বিষয়টি প্রথম আলোর বদৌলতেই হয়েছে, অন্য কোনো পত্রপত্রিকার মাধ্যমে নয়। এ কারণে পরদিনই প্রথম আলোকে এবং সেই সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পাদক ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (নোয়াব) অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। গত ২ অক্টোবর চিঠিপত্র কলামে তা প্রকাশ পায়।

শুধু এটুকুই তো নয়, প্রথম আলোয় করোনাভাইরাস সংক্রমণের নানা তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। সেসব পড়ে মানুষও তা বোঝার এবং সংক্রমণ থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছে। এ ছাড়াও মানুষ নানাভাবে সেসব খবর থেকে উপকৃত হয়েছে।

আশা করি, সব সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে নিজের শক্তিতে প্রথম আলো দেশ ও দশের সাহায্যে ও সেবায় এগিয়ে যাবে। প্রথম আলোর জন্য এই আমাদের শুভকামনা।

আমাদের আহ্বানে লেখা পাঠিয়েছেন পাঠকেরা। কোভিড–১৯ অতিমারির শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার দিনে প্রথম আলোয় প্রকাশিত কোনো খবর থেকে স্বস্তি, আনন্দ, সাহস বা প্রেরণা পেয়ে থাকলে লিখে জানাচ্ছেন সে কথা। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: dp@prothomalo.com

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0