৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা। নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে বর্ণিল আলোর ছড়াছড়ি। হঠাৎ সব আলো নিভে মুক্তমঞ্চে জ্বলে উঠল প্রদীপ। ভেসে এল ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের সুর। শুরু হলো চট্টগ্রামের ফেইম স্কুল অব ডান্স, ড্রামা অ্যান্ড মিউজিকের ১৬ বছর পূর্তি উৎসব। ‘চর্চা ও মননে স্নিগ্ধ ১৬ ফাগুন’ স্লোগানে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবে রয়েছে নাটক, পথনাটক, চলচ্চিত্র ও নৃত্যানুষ্ঠান।
গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন নৃত্যশিল্পী মানসী দাশ তালুকদার, শিখা বড়ুয়া ও রীতা দস্তিদার। অতিথি ছিলেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুচরিত দাশ। উদ্বোধনী পর্বের পর স্মরণ করা হয় রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের। মঙ্গলপ্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। এরপর ছিল কথামালার আয়োজন। কথামালা শেষে শিল্পকলার মূল মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয় ফেইম প্রযোজিত নাটক জর্জ দঁদ্যাঁ।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে মঞ্চস্থ হয় সফোক্লিসের কালজয়ী সৃষ্টি গ্রিক ট্রিলজি। ফেইমের এই প্রযোজনায় ছিল ইডিপাস, ইডিপাস অ্যাটকলোনাস ও আন্তিগোনে নাটকের পরিবেশনা। নির্দেশনায় ছিলেন অসীম দাশ। তৃতীয় দিন ৬ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ছাত্রদের প্রযোজিত নাটক দায়বদ্ধতা ও সন্ধানে। এ ছাড়া ছিল বড় পর্দায় স্যামুয়েল বেকেটের নাটকের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন। এরপর মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় ফ্রাঞ্চ কাফকার উপন্যাস মেটামরফোসিস অবলম্বনে নাটক অমৃতের সন্ধানে। উৎসবের চতুর্থ দিনে মুক্তমঞ্চে ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ছাত্রদের প্রযোজিত নাটক প্রিটী সোল ও লিমিটেশনস অ্যান্ড লাইফ। এরপর কত্থক নৃত্যের ঝংকারে মঞ্চ মাতান ফেইম নৃত্যকলা বিভাগের পরিচালক নৃত্যশিল্পী তিলোত্তমা সেনগুপ্তা। উৎসবের শেষ দিন আজ মুক্তমঞ্চে থাকছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ছাত্রদের প্রযোজিত নাটক হাইড অ্যান্ড সিক । নির্দেশনা দিয়েছেন মামুনুল হক। এরপর মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হবে কার্লো গোলদোনি রচিত হাসির নাটক নওকর শয়তান মালিক হয়রান।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন