বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানো হয়। এর মাধ্যমে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ইস্পাতের সেতু দৃশ্যমান হয়। তারপর সেতুর স্প্যানের ওপর কংক্রিটের তৈরি রোড স্ল্যাব ও রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব ও ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে।

গত ২৩ আগস্ট সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো স্প্যানে শেষ রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়। এরপর জাজিরা প্রান্তের ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারে বসানো স্প্যানের ওপর ৬০ মিটার পরীক্ষামূলক কার্পেটিং করা হয়। তিন মাসের মধ্যে কার্পেটিং কাজ শেষ করার প্রস্তুতি রয়েছে এমবিইসির।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রোড স্ল্যাব বসানোর মাধ্যমে যে কংক্রিটের পথ তৈরি হয়েছে, তার ওপর প্রথমে দুই মিলিমিটারের পানিনিরোধক একটি স্তর বসানো হবে। এটি ‘ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন’ নামে পরিচিত, যা অনেকটা প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের মতো। এর ওপর কয়েক স্তরের কার্পেটিং হবে। সব মিলিয়ে পুরু হবে প্রায় ১০০ মিলিমিটার।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৮৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেতু নির্মাণের মোট বাজেট ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে ২৫ হাজার ৮৮৯ দশমিক ৯৪ কোটি টাকা।

সবশেষ সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। তারপরও প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর থাকবে। তবে সেই সময় সেতুর কোনো ত্রুটি দেখা দিলে, তা মেরামত ও ঠিকাদারের পাওনা মেটানোর জন্য নির্ধারিত।

পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। এর ওপর দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন। নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ সহজ হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন