প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা এসেছে। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ নিয়ে মন্তব্যের কারণে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শক্তিশালী করা হবে, সেটিতেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
গতকাল রোববার সুশাসনবিষয়ক একটি সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গওহর রিজভী এ অভিমত দেন। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ওই সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন তাঁর বক্তব্যে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জনমত জরিপের প্রসঙ্গ টানেন।
কানাডার হাইকমিশনারের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে কি না সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব জনগণ ও ভোটারদের। জনমত জরিপের নির্ধারিত কিছু নমুনা টেনে বারবার ইস্যু তৈরি করে আমরা নিজেদের ক্ষতি করছি।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেন গওহর রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে, আরেকটি নির্বাচনের প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়ে তা হবে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে এ মুহূর্তে সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কানাডার হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সাতক্ষীরায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
হিদার ক্রুডেন বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া, ভোটারদের অধিকাংশ ভোটদানে বিরত থাকার মানে যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আমরা দেখছি, তা দীর্ঘায়িত হবে না। এটা আমার কথা নয়, বাংলাদেশের জনগণের ভাষ্য।
হিদার ক্রুডেন বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সততা এবং পরিশ্রম অপরিহার্য। এ কাজে সরকার ও রাজনীতিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে তাদের একার পক্ষে কাজটি সম্ভব নয়। স্বাধীন বিচার বিভাগ, গতিশীল ও উঁচু মানের গণমাধ্যম ও গঠনমূলক বিরোধী দলের সমর্থন তাদের প্রয়োজন।
সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিইআই প্রেসিডেন্ট ফারুক সোবহান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন