অনুসন্ধানে জানা গেছে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কাছ থেকে নিবন্ধন নিয়েছে এমন নৌযানের সংখ্যা মাত্র ১৫ হাজার। যদিও
এর বাইরে ছোট-বড় অসংখ্য যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী অনিবন্ধিত নৌযান সারা দেশে চলাচল করে। অনিবন্ধিত হওয়ায় সরকার এসব নৌযান থেকে রাজস্ব পায় না। আবার ফিটনেস ছাড়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানি বাড়ছে। কিন্তু অবৈধ নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর চাইছে, বাংলাদেশের জলসীমায় চলাচলকারী সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তালিকা করতে। এর অংশ হিসেবে ‘নৌযানের ডেটাবেজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ানো’ শিরোনামে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করে সেটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা খরচ ধরেছে ৩৫ কোটি টাকা। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্যভান্ডার করতে পারলে নৌ দুর্ঘটনা কমবে, নৌপথে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। সেই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

সম্প্রতি এক বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশন এ প্রস্তাবে আপত্তি জানায়। কমিশন বলছে, এ ধরনের তথ্যভান্ডার করতে যত জনবলের প্রয়োজন, তা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নেই। তা ছাড়া একটি তথ্যভান্ডার করতে এত টাকার প্রয়োজন কেন, তার সদুত্তর দিতে পারেনি অধিদপ্তর। অন্য প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে কেন তথ্যভান্ডার করতে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

তথ্যভান্ডার তৈরি করতে ৩৫ কোটি টাকার খরচ কীভাবে নির্ধারণ করেছেন জানতে চাইলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মনজুরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘দরপত্রের মাধ্যমে আমরা পরামর্শক নিয়োগ দেব। আমরা বিবিএসের সহযোগিতা নিয়ে এ শুমারি করব।’

তবে বিবিএস ২০১৯ সালে বেসরকারি বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর একটি জরিপ করেছিল নমুনা দৈবচয়নের ভিত্তিতে। জরিপে দেখা গেছে, দেশে যাত্রীবাহী নৌপরিবহনের সংখ্যা পৌনে ২ লাখ। এর মধ্যে অযান্ত্রিক নৌযান ১ লাখ ৮ হাজার। বাকি ৬৭ হাজার যান্ত্রিক নৌযান। এ ছাড়া পণ্যবাহী নৌযান আছে প্রায় ৮৮ হাজার। জরিপে বলা হয়েছিল, দেশে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযানে এখন প্রায় ৭ লাখ মানুষ কাজ করছে।

‘নৌযানের ওপর একটি শুমারি করে দিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে আমরা এখন জনশুমারি নিয়ে ব্যস্ত। এখন নৌযান শুমারি করা সম্ভব নয়।’
তাজুল ইসলাম, বিবিএসের মহাপরিচালক

কিন্তু বিবিএসের এ জরিপ সম্পর্কে কিছুই জানেন না মনজুরুল কবীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নৌযানের সংখ্যা জানতে বিবিএস আগে যে জরিপ করেছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমাদের সঙ্গে বিবিএস যোগাযোগ করেনি।’

যদিও বিবিএসের বেসরকারি বাণিজ্যিক নৌযান জরিপের প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়েই জরিপটি করা হয়েছে। জরিপের পর বিভিন্ন সভা-সেমিনারে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিকেও রাখা হয়েছিল।

নতুন প্রকল্প প্রস্তাব প্রসঙ্গে বিবিএসের মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নৌযানের ওপর একটি শুমারি করে দিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে আমরা এখন জনশুমারি নিয়ে ব্যস্ত। এখন নৌযান শুমারি করা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন