default-image

সবুজ নগর গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় লক্ষাধিক সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগানো হয়েছিল বছর পাঁচেক আগে। পরিচর্যা না করায় অনেক স্থানে গাছ মরে গেছে। যেগুলো আছে সেগুলোরও মরমর দশা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের নবগ্রাম সড়কের সড়ক-বিভাজনে (ডিভাইডার) থাকা অধিকাংশ সৌন্দর্যবর্ধক গাছ মরে গেছে। পানির অভাবে অবশিষ্ট গাছগুলোর শাখা-প্রশাখা শুকিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নগরের বিবিরপুকুর পাড়, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রাজাবাহাদুর সড়ক ও বঙ্গবন্ধু উদ্যানের গাছগুলোর অবস্থাও একই রকম। শিগগির পানি ও সার দেওয়া না হলে মরে যাবে গাছগুলো।
বরিশাল নগর সৌন্দর্য রক্ষা কমিটির সদস্য কাজী এনায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় বনজ, ফলদ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগান। সঠিকভাবে পরিচর্যা না করায় নগরের সৌন্দর্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গাছ মরে গেলেও সে ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল।
বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ স ম ইমানুল হাকিম বলেন, গাছ না থাকলে তো অক্সিজেন কমে যাবে। কলেজের সামনে ডিভাইডারের গাছগুলো দীর্ঘদিন পরিচর্যা করা হয়নি। গাছের গোড়ায় পানি ও সার না থাকায় শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকগুলো গাছ ইতিমধ্যে মরে গেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সড়ক পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার আগে যাঁরা গাছের পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা সঠিকভাবে কাজ না করায় অনেক স্থানের গাছ মরে গেছে। বর্তমানে সার, পানি দিয়ে বাকি গাছগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
নগরের নবগ্রাম সড়কের বাসিন্দা রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে থাকা গাছগুলোতে পানি ও সার না দেওয়ার কারণেই মরে গেছে। সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। করিম কুটির এলাকার বাসিন্দা রাসেদ সুমন বলেন, গত এক মাসেও সিটি করপোরেশনে কোনো লোককে গাছে পানি দিতে বা পরিচর্যা করতে দেখা যায়নি। সড়কের পাশের ব্যবসায়ী আক্কেল আলী বলেন, বর্ষার সময় গাছে পানি না দিলেও চলে। কিন্তু শুকনো মৌসুমে শুধু পানির অভাবেই গাছগুলো মরে গেছে।
এ ব্যাপারে মেয়র আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘নগর সৌন্দর্য রক্ষায় নজর দিচ্ছি না এটা সঠিক নয়। আগে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সে কাজ না করায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা গাছ পরিচর্যায় দায়িত্ব পালন করবে। গাছ পরিচর্যায় অবহেলা প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন