default-image

অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার বড়ুয়াকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। তাঁকে কেন ওএসডি করা হলো, এ নিয়ে এক বৈঠকের আয়োজন করেন হাসপাতালের উপপরিচালক কে এম মামুন মোর্শেদ।

ওই বৈঠকে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীর সামনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা ও সরকারি আদেশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের বৈঠক করা গুরুতর অপরাধ। আর এ অপরাধের জন্য উপপরিচালক কে এম মামুন মোর্শেদকে শোকজ করা হয়েছে।

আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরে জারি করা এই শোকজে বলা হয়েছে, হাসপাতালের সাবেক পরিচালকের (ভারপ্রাপ্ত) বদলি আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। ওই মতবিনিময় সভায় সরকারি আদেশের সমালোচনা ও বিষোদগার করা হয়, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯–এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর ৩ (বি) বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অবস্থায় আপনার এমন কার্যকলাপের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা তিন কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের উপপরিচালক কে এম মামুন মোর্শেদের কাছে শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সদ্য সাবেক পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়ার জন্য একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। সেখানে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে অনেক কথা বলে ফেলেছেন। দাদা এত দিন আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ হয়ে অনেকে কিছু কথা বলেছেন। এখন যেহেতু অনুষ্ঠানটি আমি আয়োজন করেছিলাম, তাই দায়ভার আমার ওপর পড়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন ধরনের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকার আর্থিক অনিয়ম করায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়াসহ তিন চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত অন্য দুই চিকিৎসক হলেন হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৌমিত্র সরকার ও নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রতন দাস গুপ্ত। পরে ৩ নভেম্বর উত্তম কুমার বড়ুয়াকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাঁকে পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওএসডি রাখার কথা বলা হয়েছে।

উত্তম কুমার বড়ুয়া আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের যুগ্ম মহাসচিব। অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঔষধ প্রশাসন অনুবিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ বছরের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন সচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রায় ৯ মাস পর পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0