পদের নাম এলাকা পরিচালক। এরা মাত্র তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন। মাসিক ভাতা ১ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ এই পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীরা ছয়-সাত লাখ টাকা খরচ করছেন। ভোটারদের বাস ও মাইক্রোবাসে করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। খাওয়াচ্ছেন দুপুরের খাবার।
এই অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পকিস)-২-এর ৯ নম্বর এলাকার পরিচালক পদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তাঁরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে টাকাপয়সা খরচ করছেন।অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কোটি টাকা আয় করতে তাঁরা টাকা খরচ করছেন।
জানা গেছে, পবিস-২-এর ৯ নম্বর এলাকা নবাবগঞ্জ উপজেলার শালখুরিয়া, মাহমুদপুর, ভাদুরিয়া, পুটিমারা ও দাউদপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ওই এলাকার পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহ্মুদুর রহমান খন্দকার ও মোকছেদুল মোমেনিন। এ এলাকায় মোট ভোটার ৫ হাজার ৮৭৪ জন। গত বুধবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে ২০-৩০টি মাইক্রোবাস এবং ৪০-৫০টি ভটভটি। এসব যানে বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। ভোট শেষে কোনো কোনো ভোটারকে নির্দিষ্ট হোটেলে নিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছেন প্রার্থীদের লোকজন। আবার কাউকে খাবারের প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে।
মাইক্রোবাসের চালক দোলোয়ার হোসেন জানান, দাউদপুর থেকে ভাদুরিয়া পর্যন্ত সারা দিন ভোটারদের আনা-নেওয়ার জন্য তাঁদের সঙ্গে ২ হাজার ৮০০ টাকায় চুক্তি করেছেন প্রার্থীরা। আ. গোফ্ফার, তরিকুল ইসলাম, লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন ভটভটিচালক জানান, তিখুর গ্রাম থেকে ভাদুরিয়া পর্যন্ত ভোটারদের আনা-নেওয়ার জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
ভোটকেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে যাওয়ার পর শহিদুল ইসলাম ও আনোয়ার খাবার প্যাকেট নিয়ে যান। চড়ারহাটের আরিফুল ইসলাম, রিপন হোসেনসহ কয়েকজন জানান, প্রার্থীরা ভোটারদের ১০০ থেকে ৫০ টাকা করে ভোট কিনছেন।
পবিস-২-এর এজিএম (এমএস) রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনীবিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থী ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন না। তবে প্রার্থীরা ওই বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভাদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল আসানুল কবির অভিযোগ করে বলেন, এলাকা পরিচালকেরা গ্রাহকদের বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিতে বাড়িপ্রতি পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা, সেচের জন্য ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন। আগের পরিচালক মাহ্মুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তাঁর এলাকাসহ বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি টাকার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগও দিয়েছেন।
নবাবগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জানান, একেকজন প্রার্থী ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এ খাত থেকে যদি অবৈধভাবে টাকা তোলা না যেত, তাহলে প্রার্থীরা কিসের আশায় এত টাকা খরচ করলেন।
ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত দুই প্রার্থী মাহ্মুদুর রহমান খন্দকার ও মোকছেদুল মোমেনিন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাহ্মুদুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা ভাদুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যানের কোটি টাকার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জের থাকায় তিনি (ইউপি চেয়ার এসব অভিযোগ করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উপপরিচালক (অর্থ) হোসেন পাটোয়ারী জানান, দুই প্রার্থীই ভোটকেন্দ্রের বাইরে যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, তা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। দিনাজপুর পবিস-২-এর মহাব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক জানান, তিনি অসুস্থ। অনিয়মের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। তিনি দাবি করেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কোনো দুর্নীতি হয় না।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন