বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চিরকুটে লেখা ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুলকে অভিযুক্ত করে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। মামলা করায় তাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেই সুযোগ তাকে দেওয়া হবে না। চিরকুটে লেখা, ‘আজই দুনিয়া হতে যাচ্ছি। আমার মৃত্যুর জন্য তুই দায়ী, তোর বিচার আল্লাহ করবে। ইতি...।’

আজ ক্ষেতলাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলার বাদী নিহত ছাত্রীর বাবা। মামলায় আগের যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলার দুজনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এই মামলার এজাহারের ৩ নম্বর আসামি আবদুর রাজ্জাককে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা।

জানতে চাইলে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্রনাথ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, চিরকুটটি পুলিশ উদ্ধার করেনি। নিহত স্কুলছাত্রীর খাতার ভেতরে পরিবারের সদস্যরা চিরকুটটি পেয়েছেন। এটি ওই ছাত্রীর নিজের হাতে লেখা কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত ৭ নভেম্বর স্থানীয় একটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী সেই অনুষ্ঠানে যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটির সঙ্গে একই গ্রামের শাহিনুর ইসলামের দেখা হয়। তখন শাহিনুর তাঁর মোটরসাইকেলে মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে না দিয়ে স্কুলে নিয়ে যান। সেখানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মেয়েটিকে স্কুলেরই একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন। তখন মেয়েটির চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে সেখান থেকে রফিকুল ও শাহিনুর পালিয়ে যান।

default-image

এই ঘটনা মেয়েটি তার বাবা ও স্থানীয় লোকজনকে জানায়। পরদিন ৮ নভেম্বর মেয়ের বাবা রফিকুল ইসলাম ও শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকেই দুই আসামি ও তাঁদের স্বজনেরা মেয়েটির পরিবারের লোকজনদের হুমকি দিচ্ছিলেন। এসব ঘটনায় ক্ষোভে-দুঃখে মেয়েটি গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে নিজ বাড়ির শোবার ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। ওর খাতার ভেতর চিরকুট পাওয়া গেছে। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের সবার বিচার দাবি করছি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন