বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি ১০ হাজার ৪৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট অন্যরা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) ও নরসিংদীর সার প্রকল্প স্থান থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী একই সময়ে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের ১৪তলাবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয়সহ আরও চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি খাদ্যপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতশিল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের মান বৃদ্ধি করতে পারলে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়েও তা বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। এখন দেশের মানুষের ক্রমক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজার বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতশিল্পের উন্নয়নে বিশেষ লক্ষ্য দেওয়ায় বাংলাদেশ কৃষিপণ্য উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। নিয়মিত গবেষণার ফলে বাংলাদেশে শস্য, ফল, শাকসবজি, ডিম, মাছ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা (খাদ্য প্রক্রিয়াজাতশিল্প উন্নয়নে) নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, দেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য তাঁরা যথাযথ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। জাতীয় শিল্পনীতি-২০২১ চূড়ান্ত হয়েছে এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৩টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪ হাজার ৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা ভোটের মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় রেখেছে বলেই আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮-০৯ অর্থবছরের মাত্র ১৫,৫৬৫ মিলিয়ন থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৫,৩৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছে। কারণ, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ২০২টি দেশে ৭৬৬টি পণ্য রপ্তানি করে। তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মুজিব বর্ষে দেশের শতভাগ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িকে আলোকিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরা বাংলাদেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’–এ রূপান্তর করেছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দিয়েছেন এবং মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পাঠিয়েছেন।

ইউরিয়া প্রকল্পের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০১৪ সালে পুরোনো ঘোড়াশাল ও পলাশ উইরিয়া সার কারখানার স্থানেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন, স্টেট-অব-দ্য-আর্ট, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব নতুন ‘ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন কারখানাটি দিনে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে পারবে। এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে ইউরিয়া উৎপাদন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী এই সার প্রকল্পে ঋণসহায়তা প্রদান করায় জাপান ও চীন সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন