default-image

বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, সে দেশের চলমান পরিস্থিতি তাদের হাতের বাইরে চলে যায়নি। শিগগিরই তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানিয়েছেন। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে পঙ্কজ সরন এ মুহূর্তে ভারতে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভারত তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে। ভারত শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পক্ষে। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান এ মুহূর্তে কী, সে বিষয়ে পঙ্কজ ভারত সরকারকে অবহিত করেছেন।
বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি যতটা অগ্নিগর্ভ ছিল, এখন ততটা নয়। সেই সময় প্রশাসন যতটা সক্রিয় ছিল, এখন তার তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়। সরকার মনে করছে, আর কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পঙ্কজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাসিনা সরকার মনে করছে না, সে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের নামে বিরোধীরা যা করছে, তাতে জনমত ক্রমশ তাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলেও সে দেশের সরকারের ধারণা। সরকার এ কারণে আরও কঠোর হাতে আন্দোলনকারীদের দমাতে চায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগে সহিংস ঘটনায় সময় সরকার যতটা নড়বড়ে ছিল, এখন ততটা নয়। তা ছাড়া সরকার তার বৈধতা নিয়েও এখন চিন্তিত নয়। এক বছর আগের ঘটনাবলিতে দেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছিল, সেই ক্ষতির পুনরাবৃত্তি হতে দিতেও হাসিনা সরকার চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার আগের বছরের তুলনায় বেশি দৃঢ়।
মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের কথায়, প্রতিবেশী দেশ অশান্ত হলে ভারত শান্ত থাকতে পারে না। ভারত তাই চায়, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক। তবে তা বাংলাদেশের জনতা ও সরকারকেই করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভারতের করার কিছুই নেই।
বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনও মনে করছে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়নি। ভারতীয় হাইকমিশনের আরেকটি মূল্যায়ন, বিএনপির পেছনে যথেষ্ট জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও গত এক মাসের টানা অবরোধ বা পেট্রলবোমা হামলার কারণে সেই জনপ্রিয়তায় আস্তে আস্তে ভাটা পড়ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন