পরীক্ষার মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেলের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ

বিজ্ঞাপন
default-image

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী নয়ন চন্দ্র নাথ (২৪) গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিখোঁজ। এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

গত ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয় পঞ্চম বর্ষের শেষ পেশাগত মেডিকেল পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় ছয়টি লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা। নয়ন তিনটি পরীক্ষায় অংশ নেন। গতকাল ছিল চতুর্থ পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু নয়ন অন্তত এর সোয়া এক ঘণ্টা আগে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যান।

নয়ন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের মৃত দিলীপ চন্দ্র নাথের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

নয়নের বন্ধু মো. ওয়াকিফ উল আলম জানান, বেশ কিছুদিন ধরে নয়ন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। তাঁর ইচ্ছে ছিল একজন সার্জন হওয়ার। কিন্তু ডান হাতের আঙুলে সমস্যা থাকায় সে সার্জন হতে পারবে না—এটা জানার পর থেকেই মূলত নয়ন বিপর্যস্ত হয়ে পরে।

নয়ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ৫১০ নম্বর কক্ষের ছিলেন। তবে পরীক্ষায় পড়াশোনার জন্য তিনি ১০৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

কলেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ও নীল রঙের টি শার্ট পড়ে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বের হন নয়ন। যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন ও মানিব্যাগ রুমে রেখে যান।

নিখোঁজ নয়নের খালতো ভাই উত্তম কুমার নাথ জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা ফরিদপুরে আসছি, সব জায়গায় খুঁজেছি। নয়ন রুম মেটকে বলে গেছে “আমি একটু আসতেছি”। কিন্তু সে আর ফিরেনি। বিষয়টি অপহরণ নাকি নিজ থেকে আত্মগোপন আমরা তো বুঝতে পারছি না।’

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এসএম খবিরুল ইসলাম জানান, গতকাল নয়নের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু সে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বেলা ১টার দিকে ছাত্ররা আমাকে জানায় নয়নকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিকেলেই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ ছাড়াও কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি র‌্যাব, জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, মহাপরিচালক-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েছে। এ ছাড়াও কলেজের নিজস্ব জনবল দিয়ে নয়নকে খোঁজা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন