বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তাফাকে ধার্য তারিখের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।

পরীমনির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের কারণ উল্লেখ করে আগে দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামের দেওয়া ব্যাখ্যা ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু তাঁদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি হাইকোর্ট। সেদিন শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য তারিখ রাখেন। সে অনুসারে আজ বিষয়টি ওঠে।

অনুতপ্ত, দুঃখিত ও ক্ষমা প্রার্থনা

ক্রম অনুসারে বিষয়টি আজ উঠলে সময় চেয়ে দুই বিচারকের পক্ষে আইনজীবী আবদুল আলীম মিয়া জুয়েল বলেন, ‘২ সেপ্টেম্বর তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন হাইকোর্ট। রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে আদালতে ব্যাখ্যা দাখিল করা হয়। কী কারণে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। শেষে বলা হয়েছে, সার্বিক বিবেচনায় দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশে ত্রুটি-বিচ্যুতি...।’

এই পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘তাঁরা (দুই বিচারক) আমার অফিসে এসেছিলেন। দুজনই তরুণ বিচারক। তাঁরা অনুতপ্ত, দুঃখিত। প্রশিক্ষণের অভাবের কারণে যথাভাবে জবাব লেখা হয়নি। দুজনই আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।’

আদালত বলেন, ‘ক্ষমা; তাহলে তাঁরা (দুই বিচারক) আরেকটি ব্যাখ্যা (রিপ্লাই) দেবেন। এ জন্য সময় দিচ্ছি। বিষয়টি ২৪ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য আসবে।’

এ সময় আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, রিমান্ড মঞ্জুরের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ-নির্দেশনা যেন নিম্ন আদালত মেনে চলেন।

আদালতের আদেশ অনুসারে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তাফাকে ধার্য তারিখের মধ্যে (২৪ অক্টোবর) ব্যাখ্যা দিতে বলেন হাইকোর্ট। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান শুনানিতে ছিলেন।

ঘটনার পূর্বাপর

মামলায় জামিন আবেদনের শুনানির দিন দেরিতে নির্ধারণ করা নিয়ে জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন পরীমনি। হাইকোর্ট রুল দেন। পরে জজ আদালত পরীমনির জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ এগিয়ে আনেন। গত ৩১ আগস্ট তাঁকে জামিন দেন। পরদিন পরীমনি কারামুক্তি পান।

এর আগে এই মামলায় পরীমনিকে প্রথমে চার দিন, দ্বিতীয় দফায় দুদিন, তৃতীয় দফায় এক দিনসহ মোট সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

হাইকোর্টে পরীমনির আবেদনের শুনানিতে তাঁকে দফায় দফায় রিমান্ড নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুরের ব্যাপারে দুই বিচারকেরদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তাফাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

এর মধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস দ্বিতীয় দফায় পরীমনির দুদিন এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম তৃতীয় দফায় এক দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় দুই বিচারকের ব্যাখ্যা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

আদালত সূত্রের তথ্যমতে, রিমান্ড মঞ্জুরের কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি পৃথক লিখিত ব্যাখ্যায় দুই ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত ও সরল বিশ্বাসে বলে উল্লেখ করেন। আর অনিচ্ছাকৃত ও সরল বিশ্বাসে করা ভুলত্রুটি মার্জনা করে পৃথক ব্যাখ্যা গ্রহণ করে অধিক ব্যাখ্যার দায় থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার আরজি জানান দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন