দোহাজারী–কক্সবাজার ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি এখন ৬৯ শতাংশ। সাধারণ ট্রেনের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট ট্রেন পরিচালনার জন্য ২০১৯ সালে উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। ওই বছরের ১৬ জুলাই ৫৪টি মিটারগেজ ট্যুরিস্ট কার কেনার জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থায়নের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ ছাড়া মিটারগেজ কোচ কেনার ব্যাপারেও নিরুৎসাহিত করা হয়। এসব কারণে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি আবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের পিডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। সরকারি তহবিলের পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য ৫৭ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বিদেশি প্রকল্প সাহায্য খাতে অর্থবরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। আর সরকারিতহবিল থেকে পাওয়া যাবে ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৫৪টি কোচের মধ্যে রয়েছে ৬টি ট্যুরিস্ট কার, ১৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কার, ১১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিমিয়ার চেয়ারকোচ, ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ারকোচ, ৭টি পাওয়ার কার এবং ৬টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ডাইনিং কার। এ ছাড়া থাকবে গার্ড ব্রেক। যাত্রীরা যেকোনো একটি কোচে উঠলেই হলো, এরপর পুরো ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কক্সবাজারে যাতায়াতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। এ জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।

মিটারগেজ না ব্রডগেজ?

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে পাঠানো কক্সবাজারগামী পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ট্যুরিস্ট ট্রেন পরিচালনায় ৫৪টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী গাড়ি সংগ্রহের ব্যাপারে গত বছরের ৭ অক্টোবর বৈঠক হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রেলসচিব মো. সেলিম রেজা।

সভা সূত্র জানায়, ওই সভায় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিন জানান, রেলওয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ট্যুরিস্ট ট্রেন পরিচালনার লক্ষ্যে ৫৪টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী গাড়ি সংগ্রহে পিডিপিপি প্রণয়ন করেছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

সভায় জানানো হয়, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আখউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের কাজ চলমান আছে।

টঙ্গী থেকে আখাউড়া ও লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ষোলোশহর পর্যন্ত মিটারগেজ ডাবল রেললাইন আছে। ষোলোশহর থেকে দোহাজারী পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন বিদ্যমান। এই মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের লক্ষ্যে ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়াকরণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

এ ছাড়া টঙ্গী থেকে আখাউড়া, লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর না করা এবং দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ এই লাইনের সম্পূর্ণ অংশ ব্রডগেজ করতে আরও সময় লাগবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন