আটটি জেলা নিয়ে রাজশাহী বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী সদর থেকে অপর দুই জেলায় নিয়মিত এবং তিনটি জেলায় অনিয়মিতভাবে বাস ছেড়ে গেছে। তবে অপর দুই জেলায় কোনো বাসই ছেড়ে যায়নি।
এ ছাড়া জেলার অভ্যন্তরে উত্তর-পশ্চিম দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে পূর্ব দিকের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
নগর ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ—এই দুই জেলায় গতকাল আধঘণ্টা পর পর যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে গেছে। আগে এই রুটে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গাড়ি যেত ১৫ মিনিট পর পর। গতকাল যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক।
বিকেল পাঁচটায় শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রায়হানুল ইসলাম (২৩)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাবেন। বাস ছাড়তে একটু দেরি হওয়ায় অটোরিকশায় করে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। রায়হান বলেন, বাসে গেলে ৭০-৮০ টাকা ভাড়া। অটোরিকশায় খরচ হবে ১০০ টাকা। তবু তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য তিনি অটোরিকশাতেই যাচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কের ‘চেইন মাস্টার’ সাজ্জাদ হোসেন জানান, তিন দিন থেকে তাঁরা এই রুটে বাস চালাচ্ছেন। স্বাভাবিক অবস্থায় দিনে ২৫-২৬টি গাড়ি যেত। গতকাল বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ছেড়ে গেছে ১৩টি। কামারুজ্জামান চত্বর থেকে এসব বাস ছেড়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাসে পর্যাপ্ত যাত্রী। ভাড়াও স্বাভাবিক।
রেলগেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ, তানোর ও বাগমারার উদ্দেশেও গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। সেখানে যাত্রী ডাকাডাকির দৃশ্য আগের মতোই। রাজশাহী কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্র নবাব আলী যাবেন বাগমারায়। তিনি বলেন, তাঁদের রুটে কোনো ঝামেলা হচ্ছে না। তাই বাসে যাচ্ছেন।
তবে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলায় অনিয়মিতভাবে বাস ছেড়ে গেছে। যাত্রীও ছিল কম। দুপুর পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে মাত্র দুটি গাড়ি ছেড়ে গেছে। পাবনার চাটমোহরের উদ্দেশে যায় একটি। নগরের ভদ্রা এলাকা থেকে এই তিন জেলার উদ্দেশে বাস ছাড়ে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল চারটার পর আর কোনো যাত্রী নেই। ভয়ে কেউ বাসে উঠছেন না বলে জানান একজন চেইন মাস্টার।
জেলায় ভটভটিনির্ভর পণ্য পরিবহন ছিল মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে ভাড়া পড়েছে বেশি। এ জন্য বাইরের ক্রেতা শহরে কম এসেছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি, চাল, ডাল বাইরে বিক্রি কম হয়েছে বলে জানান নগরের মেসার্স নিউ আদর্শ শস্য ভান্ডারের মালিক জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, আগে এক গাড়ি চাল ঢাকায় পাঠাতে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া পড়ত। এখন লাগছে ২২ হাজার টাকা।
প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, গতকাল বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে মাত্র ১২ জন দাপ্তরিক কাজে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন