চট্টগ্রাম বন্দরে গত পাঁচ বছরে ৫০ লাখ টাকার ওপরে যত কেনাকাটা হয়েছে, সেগুলোর নথিপত্র তলব করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১ নম্বর উপকমিটি। প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এসে এ নির্দেশনা দেন কমিটির সদস্যরা।
বন্দরের বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সংসদীয় কমিটির প্রথম সভায় একটি উপকমিটি গঠন করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ উপকমিটি গতকাল মঙ্গলবার বন্দর পরিদর্শনে আসে। কমিটি প্রথম দিনে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ছয়টি প্রকল্পের আওতায় কেনা জাহাজ, জলযান ও যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নিয়মনীতি মানা হয়নি বলে অভিযোগ আছে।
বন্দর সূত্র জানায়, উপকমিটির আহ্বায়ক এম এ লতিফের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা গতকাল সকালে বন্দর ভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর কমিটির সদস্যরা কর্ণফুলী সেতুর অদূরে সম্প্রতি কেনা একটি খননযন্ত্র দেখেন। সেখান থেকে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের জেটিতে তিনটি পুরোনো জাহাজ পরিদর্শন করেন। এরপর বন্দরের একটি জলযানে চড়ে কমিটির সদস্যরা সদরঘাট এলাকায় বন্দরের বর্জ্য অপসারণকারী দুটি জাহাজও পরিদর্শন করেন। কমিটির সদস্যরা বিকেলে কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ও নিরাপদ নৌচলাচল পদ্ধতি দেখার সময় এই দুটি প্রকল্পের নিম্নমানের সরঞ্জাম দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বন্দর সূত্র জানায়, এরপর বন্দর ভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসেন কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে গত পাঁচ বছরের ৫০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে কেনাকাটার নথিপত্র তলব করেন কমিটির আহ্বায়ক। এসব নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
উপকমিটির আহ্বায়ক এম এ লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছয়টি সুনির্দিষ্ট ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এসেছি। এসব কেনাকাটার কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। অন্য যেসব বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর (গণখাতে ক্রয়বিধি) অনুসরণ করা হয়েছে।’
গতকাল পরিদর্শনের সময় এম এ লতিফ ছাড়া সংসদীয় উপকমিটির সদস্য মো. আনোয়ারুল আজীম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংসদীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী ও এ বি এম ফজলে করিমও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন