দেশের টাকা পাচারকারীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমানের সাক্ষাৎ শিষ্য বলে দাবি করেন ইনু। তিনি বলেন, এরা ডাবল চোর। এরা দেশের ভেতরে একবার চুরি করে, বিদেশে টাকা পাচার করে আরেকবার চুরি করে। দেশে এই ডাবল চোরদের ধরার জন্য আইন আছে, মামলাও আছে। তিনি কর দিয়ে বিদেশে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব বাতিল, এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি আটকানো, নিত্যপণ্যের ওপর ভর্তুকি, শ্রমিকদের রেশন কার্ড দেওয়া এবং বাজার সিন্ডিকেট ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

ইনু অভিযোগ করেন, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক অনেকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁরা দাতাদের তোতা পাখি। শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর কাজ সফলভাবে করার মাধ্যমে প্রমাণ করলেন, এসব প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ যোগ্যতার উচ্চতায় শেখ হাসিনার ধারেকাছেও যায় না। শেখ হাসিনা অনেক পরিকল্পনাবিদ, দূরদর্শী ও সাহসী রাজনৈতিক নেতা, বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ। তাঁর মতো প্রশ্নাতীত দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ উপমহাদেশেও নেই।

বিদেশি পরামর্শ গ্রহণে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে ইনু বলেন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সমাজতন্ত্র প্রশ্নে আমদানি করা বিদেশি প্রেসক্রিপশন দেখেন-শোনেন, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাংলাদেশের মতো করে ভূমিজ ও কার্যপত্র গ্রহণ করে এগোতে হবে। সুতরাং জঙ্গি দমনে র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি থাকবে। তাদের লাগবে। গ্রামের নারী-চাষির জন্য ভর্তুকি থাকবে। প্রণোদনা থাকবে। কারও কথা শোনা যাবে না।

ইনু বলেন, ‘বিদেশি বন্ধুদের বলব সহযোগিতার মোড়কে ছবক দিতে আমাদের আসবেন না।’

ইনু অভিযোগ করেন, ভোটের আগে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করার চক্রান্ত হচ্ছে। সরকার দেশের শত্রু বিএনপি-জামায়াত ও ঘরের শত্রু দুর্নীতিবাজদের আক্রমণের মুখে। অস্বাভাবিক সরকার আনার চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট একটি মডেল বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করেন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি স্লোগান দিচ্ছে, পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। এটা স্লোগান নয়, এটা তাদের মনের কথা। তারা স্বীকার করে নিচ্ছে তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। পদ্মা সেতু যাতে না হয়, সে জন্য ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপিও ষড়যন্ত্র করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যান্যের মধ্যে সরকারি দলের সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার, মোসলেম উদ্দীন, মোতাহার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন