default-image

কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে পাটবীজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। অন্য ফসলের তুলনায় কম লাভ হওয়ায় কৃষকেরা পাটবীজ চাষ করতে চান না। পাটবীজ উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহী করতে প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে। পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

‘পাটবীজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল সভায় আজ বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘পাটের জিনোম ব্যবহার করে দেশের বিজ্ঞানীরা উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর ফলন ভারতের পাটের জাতের চেয়ে অনেক বেশি। কৃষক পর্যায়ে এসব জাতের চাষ জনপ্রিয় করা গেলে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

সভায় জানানো হয়, দেশে বর্তমানে উৎপাদিত পাটের ৮৫ ভাগই তোষা জাতের পাট। এ পাটবীজের চাহিদার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ ভারত থেকে আনতে হয়। এই বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কৃষি মন্ত্রণালয় পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬–এ পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় বলা হয়, উচ্চমূল্যের রবি ফসলের পরিবর্তে কৃষক পাটবীজ উৎপাদনে তেমন আগ্রহী হন না। তোষা পাটবীজ চাষ করে একরপ্রতি কৃষকের নিট লাভ হয় ৪৮ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ফুলকপি চাষে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বাঁধাকপি চাষে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিট লাভ হয়। এ কারণে পাটবীজ উৎপাদনের পরিবর্তে পাট চাষের সময় কৃষক বাজার থেকে বীজ ক্রয় করে পাট চাষ করা লাভজনক বলে মনে করে।

সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাটবীজ চাষের জন্য জমির স্বল্পতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত সুগার মিলের জমি পাটবীজ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ভার্চ্যুয়াল সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো. মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল, মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা ও সংস্থা প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন