মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ছোট ছোট ট্রলারে করে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় নৌ-দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। লঞ্চের তুলনায় ট্রলারে যাতায়াত ভাড়া ও সময় কম ব্যয় হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হচ্ছেন অনেকেই।
এ ব্যাপারে আরিচা নৌপরিবহন ও বন্দর কর্মকর্তা এনামুল হক প্রথম আলোকে জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ট্রলারে যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণ অবৈধ।
গতকাল বুধবার বেলা একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে শিবালয়ের পাটুরিয়ায় এবং পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ায় ইঞ্জিনচালিত ছোট ছোট ট্রলারে করে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।
গতকাল বেলা দুইটার দিকে দৌলতদিয়া থেকে ৮০ থেকে ৯০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার পাটুরিয়ায় ভেড়ে। তবে লঞ্চের মালিক ও চালক দৌলতদিয়া গ্রামের টোকন শেখের দাবি, তাঁর ট্রলারে ৬০ জন যাত্রী ছিল।
ওই ট্রলারের যাত্রী ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার রুদ্রবানা গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন (২৮) বলেন, ‘লঞ্চের তুলনায় ট্রলারে নদী পারাপারে সময় কম লাগে। যাতায়াত ভাড়াও কম। তাই ট্রলারেই নদী পার হলাম।’ তবে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা ঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মুশকিন্নি গ্রামের জয়নাল মোল্লা ঢাকার সাভারের নবীনগরে যাচ্ছিলেন। বেলা দুইটার দিকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ট্রলারে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ায় আসেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘লঞ্চে ভাড়া ডাবল (দ্বিগুণ), হেইর লেইগ্যা তাড়াহুড়ো কইর্যার ট্রলারেই আইলাম।’
বেলা আড়াইটার দিকে দৌলতদিয়ার নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ট্রলার মালিক ও চালক হাবিব মণ্ডল তাঁর ট্রলারে করেও প্রায় ৮০ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ায় আসেন। এ সময় ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে­ কেন—জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর ট্রলারে ৬০ জন যাত্রী বহন করা যায়। তবে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে আসা হয়।
পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার পর অনেকেই ট্রলারে করে নদী পারাপার হচ্ছেন। এই সুযোগে অনেক ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনার পর লঞ্চের যাত্রী কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
গত রোববার দুপুরে পাটুরিয়ার অদূরে মর্মান্তিক লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। এতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও সাতজন। এ দুর্ঘটনার পরও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।
পাটুরিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আবদুল মোকতাদের প্রথম আলোকে বলেন, নৌবন্দর এলাকায় ট্রলারে যাত্রী পারাপারে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি বন্দর কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
আরিচা নৌপরিবহন ও বন্দর কর্মকর্তা বলেন, খোঁজখবর নিয়ে নৌ পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ট্রলার চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন