বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৮ অক্টোবর সেই আলোকচিত্র বাছাইয়ের কাজ শুরু হলো বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রগতি ভবনের দশম তলায় প্রথম আলোর কার্যালয়ে।
টেবিলের দুই পাশে বসলেন শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান, হাসান সাইফুদ্দিন চন্দন, তাসলিমা আখ্তার, সৈয়দ লতিফ হোসাইন ও সুমন ইউসুফ। ১৮ বছর থেকে যেকোনো বয়সের পাঠকই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরেছেন।

বিচারকেরা বেশ আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে ছবি বাছাই শুরু করলেন। ‘বাংলার মুখ’ শিরোনামের এই আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন মোট ৮৯৬ জন আলোকচিত্রশিল্পী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। এমনকি দেশের বাইরে থেকেও নিজেদের তোলা ছবি পাঠিয়েছেন।

বিচারকেরা ভেবেছিলেন, বিকেল নাগাদ বাছাইপর্ব শেষ করে বাড়ি ফিরবেন। সৈয়দ লতিফের ল্যাপটপে তাঁর আঙুলের ছোঁয়ায় একে একে ছবি ভেসে উঠছে মনিটরে। আর সবাই এটা না ওটা, ওটা না এটা—এভাবে ছবির সংখ্যা কমাতে থাকলেন। বিচারকাজের এ লম্বা যাত্রায় তাঁদের খুঁজে বের করতে হবে সেরা ১০ ছবি। সেরা ১০ থেকে নির্বাচন করতে হবে তিনজনকে। যাঁরা হবেন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়। ঘোষণা অনুযায়ী জিতে নেবেন আকর্ষণীয় পুরস্কার। বিচারক শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান বলেন, ‘এখন এমন একটি সময়, যেখানে প্রায় সবাই ছবি তোলেন। তাঁদের অনেক ছবিতে আমরা পেশাদারত্বের ছোঁয়া দেখতে পেয়েছি। আলোকচিত্রীদের ক্লিকে তাঁদের আশপাশের জগৎ ফুটে উঠেছে। ফুটে উঠেছে নানা বৈচিত্র্য।’

দুপুর পেরিয়ে বিকেল, বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা। বাছাইয়ের কাজ আর শেষ হয় না। বিচারকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দিলেন। এরপরও তাঁদের মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। কারণ, সারা দেশের অসংখ্য আলোকচিত্রীর নানা ধরনের ছবি তাঁদের চোখের সামনে। হাজারো ছবি থেকে তিনজনকে বের করা চাট্টিখানি কথা নয়। কাঁটায় কাঁটায় রাত সাড়ে আটটা। পাঁচ বিচারক ঐকমত্যে পৌঁছালেন। বের করবেন সেরা ১০ জনকে। বহু কষ্টে বাছাই করলেন সেরা ৩ আলোকচিত্রীকে। সেরা ৩ জনকে বাছাই করা ছিল আরও কষ্টের। ১০ থেকে কাউকে যে বাদ দেওয়া যাচ্ছিল না।

পত্রিকার পাতায় আলোকচিত্র আহ্বান করা হয়েছিল ১১ অক্টোবর। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাঠকেরা তাঁদের আলোকচিত্র জমা দিতে পেরেছেন।

শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ১৩ নভেম্বর থেকে শুরু হবে বিশেষ প্রদর্শনী ‘আলোয় আঁধারে’। এই প্রদর্শনীতে পাঠকের মোট ১০০ আলোকচিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শুধু শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে প্রদর্শনী শুরু হবে। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় আয়োজন করা হবে আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠানের।

১৫ নভেম্বর বিকেল পাঁচটায় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে পাঠকের আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ‘বাংলার মুখ’–এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেবেন খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। উপস্থিত থাকবেন বাছাইপর্বের বিচারকেরা।

প্রদর্শনীতে স্থান পাচ্ছে যাঁদের ছবি

এ বি এম নাইম সিদ্দিকী, আবদুল হামিদ, আদিব আকতাব, আহমাদ রাকিব, আলামিন, এমদাদ হোসাইন, অমিত পাল, অনিক আনোয়ার, আনোয়ার হোসাইন ইমন, অপু জামান, অপূর্ব বিশ্বাস, আশরাফুল ইসলাম, বাঁধন মণ্ডল, চৈতি জব্বার, এনামুল হক, এনামুর রেজা, ইসমত রাব্বানি, ইস্তিয়াক করিম, জ্যাক বড়ুয়া, জান্নাতুল নায়েম, জীবন মালাকার, জয়ীতা রায়, কমল দাশ, কাজী আজহার উদ্দিন, কাজী মো. জহিরুল ইসলাম, খোরশেদ আলম সাগর, লিমন বড়ুয়া, মহত হাসান, মো. হারুন অর রশিদ, মো. রায়হান চৌধুরী, মো. রিজওয়ান হাসান, মো. রুবায়েদ, মো. সাইফুল আমিন, মো. জাকিরুল মাজেদ, মো. আসাদুজ্জামান, মো. এনামুল কবির, মো. ইমরুল কায়েস, মো. খালিদ রায়হান শাওন, মো. নাবিয়াল হারামাইন, মো. শামসুল হক সুজা, মো. সারওয়ার হুসাইন, মেহেদি হাসান নাঈম, মেহরাব নাইম, মিথাইল আফরিজ চৌধুরী, মিথুন দত্ত, মোবাসসিদুর স্বাধীন, মোহাম্মদ রাফায়াত হক খান, মোহাম্মদ রাতুল, মোহাম্মদ রুবেল, মোহাম্মদ শাজাহান, মনিরুজ্জামান সজল, নাজমুল হক, নিলয় কুমার ঘোষ, নিশাত আরা, নূর ভূঁইয়া, পন চাকমা, পিয়াস ভৌমিক, পিনু রহমান, প্রিতম হায়দার, প্রসেনজিৎ কুমার মণ্ডল, রাব্বি আহমেদ, রাহুল ইসলাম বাহার, রাজন কুমার দে, রাকিবুল আলম খান, রাতুল ধর, সাব্বির হোসেন, সাইমুম সাঈদ, শাওন সরকার, সাজ্জাদ হোসাইন শান্ত, শাহরিয়ার আমিন ফাহিম, শাহরিয়ার ফারজানা, শামস প্রান্ত, সৌরভ চৌধুরী, শুভ্র সরকার, সনি রামানি, শোভন কর্মকার, সৈয়দ মাহমুদুর রহমান, তামিম ই মোহাম্মাদ জিনিয়াস, তন্ময় দাস, তাসাওয়ার ইসলাম, তৌফিক শাহাব, তুষার কুমার দত্ত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন