বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় আট দিনের ব্যবধানে দুই ছাত্রী শ্লীলতাহানি ও আরেকজন উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানেরা নিশ্চিত করেছেন।
শ্লীলতাহানির একটি ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার হননি। অপর ঘটনায় পরিবার অভিযোগ দিতে গেলেও থানার পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। আর উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় মামলার পর চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্লীলতাহানির ঘটনা দুটি ঘটে গত ২৬ এপ্রিল। প্রথম ঘটনার শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ওইদিন রাতে বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ছিল সে। তখন শিক্ষক মেয়েটিকে পাশের কক্ষে ডেকে নিয়ে তার শ্লীলতাহানি করেন। মেয়েটির চিৎকারে সহপাঠীরা দৌড়ে এলে নিরস্ত হন তিনি। তবে বিষয়টি কাউকে না বলতে সবাইকে শাসিয়ে দেন। ঘটনার পর থেকে মেয়েটি স্কুলে যাচ্ছে না বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এ ঘটনায় মেয়েটির মা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪ মে পাথরঘাটা থানায় মামলা করেন। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি।
ওই শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িত নই।’
একই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে ছোট ভাইকে নিয়ে ঘরে ছিল উপজেলার একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। মা-বাবা দুজনই বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী এক যুবক (৩২) পানি পানের অজুহাতে ওই বাড়িতে যান। একপর্যায়ে মেয়েটিকে পাশের কক্ষে ডেকে নিয়ে তার শ্লীলতাহানি করেন। মেয়েটির চিৎকারে ছোট ভাইসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান। বিষয়টি প্রকাশ না করতে এবং টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করতে ঘটনার পর থেকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েটি আর স্কুলে যাচ্ছে না।
মেয়েটির বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মিটমাট করে নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
এদিকে মেয়েটির পরিবার থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক মৃধা বলেন, ‘উনি (মেয়েটির বাবা) থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। তা ছাড়া ওনার অভিযোগটি ছিল উত্ত্যক্ত করার (ইভ টিজিং)। পরে শুনেছি, স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঘটনাটির ফয়সালা হয়েছে।’
উত্ত্যক্ত করার ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার। ঘটনার শিকার মেয়েটি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মেয়েটিকে দেড় বছর ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল স্থানীয় পাঁচ-ছয়জন বখাটে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তারা মেয়েটির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তাকে গালাগাল শুরু করে। জানালা খুলে বিষয়টি দেখার চেষ্টা করলে তারা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে।
মেয়েটির মা প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির দাদা পাথরঘাটা থানায় চার বখাটের নাম উল্লেখসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বখাটেরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মেয়েটি এখনো স্কুলে যাচ্ছে না। মেয়েকে নিয়ে পরিবারটি উপজেলা সদরে আশ্রয় নিয়েছে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক বলেন, উত্ত্যক্তের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর শ্লীলতাহানির একটি মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন