default-image

পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি আয়োজিত মাসব্যাপী বইমেলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে বিশেষ বিতর্ক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘এই সংসদ মনে করে ভাষা দিবস আজ শুধুই আনুষ্ঠানিকতা’।

গতকাল বুধবার পাবনা শহরের দোয়েল চত্বরে আয়োজিত এ বিতর্কে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ডিবেটিং সোসাইটির সদস্যরা অংশ নেন।

বিতর্কটি পরিচালনা করেন পাবিপ্রবির ইতিহাস এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ। এতে সরকারি দলের হয়ে বিতর্ক করেন রাজিব রায়হান, সাকিব সিজান, সঞ্চিতা মহন্ত এবং বিরোধী দলে ছিলেন শুভ্র হাসান, সৈয়দ ইয়ানূর ও আরাফাত আহমেদ। বিচারক হিসেবে ছিলেন আইনজীবী মুশফেকা জাহান, ডা. রাম দুলাল ভৌমিক এবং স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক অনন্যা রহমান খান।

সরকারি দলের হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের সময় সাকিব সিজান বলেন, আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা কেবল একটি মাস কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। মানুষ এখন ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া এবং শোভাযাত্রা করার মধ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের কার্যক্রমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বেশির ভাগ মানুষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নন। না হলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে কখনোই সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ব্যবহার করা হতো না। এ সময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

default-image

বিরোধী দলের বক্তা আরাফাত আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করেই এ দেশে মাসব্যাপী বইমেলা হয়। একুশে ফেব্রুয়ারিতে নানা ধর্ম–বর্ণের মানুষ একসঙ্গে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয়। মাতৃভাষা দিবস এ দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এ সময় তিনি ভাষাশহীদদের পরিবারকে সহায়তার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ড. মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, মানুষ নিজের প্রয়োজনে বিদেশি ভাষা শেখে। তবে বিশ্বায়ন এবং আকাশসংস্কৃতির প্রভাবে বাংলা ভাষা তার প্রবহমানতা হারাচ্ছে। এ দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ বাংলা ভাষার সঙ্গে ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলাকে ‘স্মার্টনেস’ হিসেবে বিবেচনা করে। এফএম রেডিও এবং টেলিভিশনে বিদেশি ভাষার শব্দের সঙ্গে নানা আঞ্চলিক শব্দ মেশানো হয়।

ড. মো. হাবিবুল্লাহ আরও বলেন, ভাষার অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাতৃভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি উপস্থিত সবাইকে বিদেশি ভাষার প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ না করে, বিদেশি ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষা গুলিয়ে না ফেলার আহ্বান জানান।

*লেখক: শিক্ষার্থী, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন