default-image

পার্লামেন্টে কী চলছে? এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পার্লামেন্ট পুরোপুরিভাবে একটা রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে। সরকারি দল ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য, একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে আড়াল করার জন্য যে একটা পার্লামেন্ট খাড়া করে রেখেছে, আসলে সেই পার্লামেন্টে কী হচ্ছে?

আজ বুধবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির সাংসদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের সেই পুরোনো কায়দায়, ১৯৭২ থেকে ’৭৫ সালে তারা যেভাবে পার্লামেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল, ঠিক একই কায়দায় আজকেও তারা সংসদকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সংসদ সদস্যদের যেটুকু ন্যূনতম অধিকার, সেই অধিকারটুকু তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়, সংসদ সদস্যরা যে প্রশ্ন দিচ্ছেন, সেই প্রশ্ন বদলে দেওয়া হচ্ছে। এটা চিন্তাও করা যায় না।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেখানে স্পিকার, পার্লামেন্টের সেক্রেটারিয়েট—তারা যদি এই প্রতারণার সঙ্গে, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়, তাহলে এটাকে কোন ধরনের অপরাধ বলব। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই ধরনের সংবিধান লঙ্ঘন মানে হচ্ছে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ। অর্থাৎ পুরো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা, সংবিধানকে লঙ্ঘন করা। এ রকম একটা সংসদ এখন চলছে।’

সংসদে একটা শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য খুব প্রয়োজন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা হাস্যকর। আমরা মনে করি, এই ধরনের কথা বলা মানে হলো জাতির সঙ্গে তামাশা করা। আমরা বলতে চাই, এগুলো পরিহার করুন। সত্যিকার অর্থে জনগণের পার্লামেন্ট নির্বাচিত করুন, একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটা নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচনে দেখা যাবে সত্যিকারের বিরোধী দল বলতে কী বোঝায়।’

বিজ্ঞাপন

দলের সাংসদ হারুনুর রশীদ অভিযোগ করে বলেন, ‘এটা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের, আমার প্রশ্ন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রশ্নপত্র জমা দিই সেটি স্পিকার গ্রহণের পর হুবহু মৌখিক প্রশ্ন তালিকায় আসতে হবে। কিন্তু আমি বিস্মিত হয়েছি আমার প্রশ্নটি (৬৮ নম্বর) সেভাবে আসেনি। মাননীয় মন্ত্রী যে উত্তর দিয়েছেন, এর ধারেকাছেও যাননি। আজকেও আমার মৌখিক একটি প্রশ্নের আংশিক উত্তর এসেছে, পুরোটা আসেনি। স্পিকার ও সংসদনেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

সাংসদ জি এম সিরাজ বলেন, ‘১২ বছর দুর্নীতি চলছে, লুট চলছে, ডাকাতি চলছে, ব্যাংক খালি করে ফেলেছে, অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু লীগ আর লীগ। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদ থেকে বলেন সেই ১৪ বছর আগের কাহিনি। ১৪ বছর আগে বিএনপি কী করেছিল? গত ১৪ বছরের সরকার কী করল সেটা তিনি দেখেন না। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন

জি এম সিরাজ বলেন, ‘আগামীকাল যদি দেখি পার্লামেন্ট ডিজলভড হয়ে গেছে, তাহলে আমি হব হ্যাপিয়েস্ট ম্যান। কেন? আমি চাই, মানুষ তার ভোটের অধিকার ফিরে পাক। এরা (ক্ষমতাসীনরা) মানুষের প্রতিনিধি নয়, এরা হাওয়ার প্রতিনিধি।’
সংসদে নিজের জমা দেওয়া সাতটি প্রশ্ন মূল প্রশ্ন তালিকায় বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হওয়ার অভিযোগ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুয়ায়ী সংসদ সদস্য যে প্রশ্ন জমা দেবেন, সেই প্রশ্ন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার চাইলে গ্রহণ করতে পারেন বা বাদও দিতে পারেন। সেই এখতিয়ার তাঁদের আছে। কিন্তু প্রশ্ন বিকৃত করার কোনো রকমের ক্ষমতা সংসদের নেই।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমরা এমন একটা দেশে বাস করছি, যেখানে ভোট জালিয়াতি হয়, ব্যাংক জালিয়াতি হয়, টাকা পাচারের জালিয়াতি হয়, শেয়ারবাজারে জালিয়াতি হয়, যেখানে শিক্ষা ক্ষেত্রে জালিয়াতি হয়, করোনা নিয়ে, মাস্ক নিয়ে জালিয়াতি হয়। এই জালিয়াতি এখন সংসদেও ঢুকে গেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংসদ মোশাররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম ও জাহিদুর রহমান।

মন্তব্য পড়ুন 0