default-image

দুদকের করা অর্থ পাচারের এক মামলায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদা রুনাইসহ তিনজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন নাহিদা রুনাই। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রবিউল আলম আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবেদ হাসান ও জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক রাফসান রিয়াদ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

দুদকের পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, অর্থ পাচার মামলায় নাহিদা রুনাইসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করে দুদকের পক্ষ থেকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে তাঁদের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আসামিদের পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে শুনানির সময় প্রত্যেকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

এদিকে পি কে হালদারের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী অবন্তিকা বড়াল আজ মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের দায়ের করা অর্থ পাচারের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার হন। দুই দফা রিমান্ড শেষে আজ তাঁকে আদালতে হাজির করে দুদক।

অনিয়ম-দুর্নীতি ‘ম্যানেজ’ করতেন এস কে সুর চৌধুরী

এর আগে অর্থ পাচার মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হককে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। পরে আসামি রাশেদুল হক ঢাকার সিএমএম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। দুদক সূত্র বলছে, রাশেদুল হকের জবানবন্দিতে আসামি রুনাইসহ অন্য আসামিদের নাম উঠে আসে।

রাশেদুল হকের জবানবন্দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক শাহ আলমের নামও উঠে আসে। জবানবন্দিতে রাশেদুল বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম চাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে দিত রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক শাহ আলমকে প্রতি মাসে দেওয়া হতো দুই লাখ টাকা করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি ‘ম্যানেজ’ করতেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রাশেদুল হক বলেছেন, তিনি এমডি হলেও মূলত পি কে হালদারই কোম্পানিটি পরিচালনা করতেন। রুনাই, আল মামুন সোহাগ ও রাফসান চৌধুরীকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে নিয়ে আসেন পি কে হালদার। তাঁরা সরাসরি পি কে হালদারের সঙ্গে ‘ডিল’ করতেন। রুনাই ছিলেন হেড অব বিজনেস। পুরো কাজে তাঁদের সহায়তা করতেন ট্রেজারি প্রধান অভিক সিনহা।

রাশেদুল হক তাঁর জবানবন্দিতে আরও বলেন, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) হিসেবে কাজ করার সময় রুনাই আহমেদ, আল মামুন সোহাগ, রাফসান রিয়াদ চৌধুরীও সেখানে কাজ করতেন। তাঁরা ঋণ প্রস্তাবনা তৈরি করতেন। পি কে হালদার তখন রিলায়েন্সের এমডি ছিলেন। তিনি সেখানে একক কর্তৃত্ব খাটাতেন। তাঁর কাছে লোকজন এলে রুনাই, আল মামুন ও রাফসান রিয়াদকে দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ প্রস্তাব করে বোর্ডে উপস্থাপন করে অনুমোদন করিয়ে নিতেন। বোর্ডের সদস্যরাও এ বিষয়ে জানতেন। বোর্ডে তখন মমতাজ উদ্দিন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও ছিলেন।

অস্তিত্ববিহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দিয়ে ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ২৪ জনের নামে মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি পি কে হালদারসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন এবং ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এর আগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন