default-image

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান।
গতকাল শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তাঁর আইনজীবীরা। তাঁরা আরও জানান, রিভিউতে খালাস পাবেন বলেও বিশ্বাস করেন কামারুজ্জামান।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান পাঁচ আইনজীবী। তাঁরা কামারুজ্জামানের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলেন।
পরে কামারুজ্জামানের আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রিভিউ আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন কামারুজ্জামান। মৃত্যু পরোয়ানা যেদিন পড়ে শোনানো হয়েছে, সেদিন থেকে ১৫ দিন সময় আছে। এর মধ্যেই রিভিউ আবেদন করা হবে। রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার এক ঘণ্টা আগেও রায় কার্যকর করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম জানান, রিভিউতে ন্যায়বিচার পাবেন বলে কামারুজ্জামান ও তাঁদের বিশ্বাস।
এ বিষয়ে আরেক আইনজীবী শিশির মনির প্রথম আলোকে জানান, এখন প্রথম কাজটি হচ্ছে রিভিউ আবেদন করা। তাই এ সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া বা না-চাওয়া নিয়ে কোনো কিছুই ভাবছেন না কামারুজ্জামান। শিশির মনির বলেন, ‘আমরা আপিল বিভাগের রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দেখছি। কোন কোন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রিভিউ আবেদন করা হবে, তা নিয়েই এখন আমরা কাজ করছি। এ কাজ শেষ করতে দু-এক দিন লাগতে পারে।’
এক প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির জানান, কামারুজ্জামান ভালো আছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তিনি নির্দোষ। যেসব ঘটনায় তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি রিভিউতে ন্যায়বিচার ও খালাস পাবেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত বুধবার প্রকাশিত হয়। ওই দিন রাতেই ওই রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য আসামির হাতে ১৫ দিন সময় আছে। বৃহস্পতিবার থেকে এই দিন গণনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন