default-image

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে হাজির হন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। তখন বেলা প্রায় তিনটা। ততক্ষণে বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন পক্ষপাতমূলক নির্বাচনের মৌখিক অভিযোগ দিয়ে ফিরে গেছেন। এরপরই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান।

এক বাক্যে জান্নাতুল ইসলাম বললেন, ‘পুলিশের ভূমিকা ছিল একেবারে ন্যক্কারজনক। নৌকার কর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার হাতপাখা ও ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এমন কারচুপির নির্বাচন নজিরবিহীন।’

বিজ্ঞাপন

জান্নাতুল ইসলাম তাঁর লিখিত অভিযোগে জানান, সকাল নয়টায় তিনি পাহাড়তলী হাসপাতাল কলোনি স্কুল পরিদর্শনের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা করে। এতে ২০ নেতা–কর্মী আহত হন। শহরজুড়ে কোনো কেন্দ্রে তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যাঁরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পেরেছেন, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। নৌকার কর্মীরা ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার পর জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান তাঁর বক্তব্য শুনেছেন। তবে কোনো ধরনের সমাধান দিতে পারেননি বলে জানান জান্নাতুল ইসলাম।

এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ দেন ধানের শীষের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা দলীয় নেতা-কর্মীদের মতো ছিল। আমরা নির্বাচন পুলিশের বিরুদ্ধে করছি বলে মনে হচ্ছে। তাদের সহায়তায় বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

পরে বের হয়ে এলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সব কটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি চলছে। আমি এখনই বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি না। প্রশাসনের সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ কতটা ন্যক্কারজনক নির্বাচন হতে পারে আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।’

এসব অভিযোগ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে অনুমতি মেলেনি। ফোনেও তিনি কোনো ধরনের বক্তব্য দেননি। ভোট গণনার সময় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে এ নিয়ে কথা বলবেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনে বেশ কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একজন মারা গেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। আর কোনো প্রার্থীর পক্ষে আমাদের পক্ষপাত ছিল না। সবার সঙ্গে সমান আচরণ ছিল পুলিশের।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন