সামনে পুলিশ ভ্যান। তারপর পাঁচ-ছয়টি যাত্রীবাহী বাস। মাঝে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির ভ্যান। এরপর আরও চার-পাঁচটি ট্রাক। পেছনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। শেষের দিকে আট-নয়টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সবার পেছনে থাকে পুলিশভ্যান। এভাবে পুলিশ ও বিজিবির গাড়ি দিয়ে সাজানো যানবাহনের বহর প্রতিদিন গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় যাচ্ছে।
জেলা মোটর মালিক সমিতির কার্যালয় সূত্র জানায়, অবরোধের আগে গাইবান্ধা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি যাত্রীবাহী যানবাহন ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় চলাচল করত। কিন্তু অবরোধে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভয়ে যানবাহন চলাচল করছে এক-চতুর্থাংশ। জেলা ট্রাক মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, অবরোধের আগে দৈনিক ৯০টি ট্রাক চলাচল করত। এখন চলছে ১৫-২০টি।
এদিকে গত ৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবরোধ-হরতালে তিন শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক এবং গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এসব যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলসীঘাট এলাকায় চলন্ত বাসে পেট্রলবোমা মেরে আটজনকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যায়। এ অবস্থায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। নাশকতা এড়াতে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির পাহারা বাড়ানো হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় দৈনিক ৩০-৩৫টি যাত্রীবাহী বাস এবং ১৫-২০টি ট্রাক চলছে। বাস-ট্রাকের সঙ্গে কিছু অন্য যানবাহনও চলছে।
গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগ জানায়, দৈনিক তিন দফায় পুলিশ-বিজিবির পাহারায় যানবাহন চলাচল করছে। সকাল থেকে গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে যানবাহন জড়ো হতে থাকে। ১৫ থেকে ২০টি যানবাহন জড়ো হওয়ার পর সকাল ১০টার দিকে যানবাহনের বহর রওনা দেয়। এভাবে ১০টার পর যেসব যানবাহন জড়ো হয়, সেগুলো দুপুর ১২টায় এবং এর পর থেকে যেগুলো জড়ো হয়, সেগুলো বেলা তিনটায় একই ধরনের নিরাপত্তা নিয়ে গাইবান্ধা ছাড়ে। গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিন দফায় যানবাহন পারাপারের পরও যেসব মালবাহী ট্রাক চলাচল করছে, সেগুলোকেও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিবুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি মানেই যানবাহন ভাঙচুর। তাই পুলিশ ও বিজিবির পাহারার ব্যবস্থা করা হলেও অনেক মালিক যানবাহন চালাতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, পরিবহন বন্ধ থাকায় এমনিতেই ব্যবসায়িক ক্ষতি, তার ওপর আবার বসিয়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। কিন্তু সরকার কোনো ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে তিন হাজারের বেশি শ্রমিক হাত গুটিয়ে বসে আছেন। বর্তমানে পুলিশি পাহারার কারণে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কাজ করতে পারছেন।
পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক এবং জেলা শহরে প্রবেশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. এহছানে এলাহী বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি তদারক করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন