বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো : কুমিল্লার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই উসকানিমূলক ফেসবুক লাইভ করতে দেখা গেছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকার পরও লাইভ চলতে দেওয়া হলো কেন ?

মো. কামরুজ্জামান : এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তার কোনো ধরনের ব্যর্থতা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার ঠেকানোর বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় পরিসরে হয়তো কিছু করার থাকে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক মানুষের ভিড়ে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এই ধরনের লাইভ কনটেন্ট অপসারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে হয়। তারপর তারা সেটি সরাতে পারে। বিষয়টি সময় সাপেক্ষ এবং এতে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও মানুষের যেন জানমালের ক্ষতি না হয়, সে জন্য পুলিশের পক্ষে যতটা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব তারা সেটা নিয়েছে।

প্রথম আলো: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারিতে কতটা তৎপর ছিল?

মো. কামরুজ্জামান: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বর্তমানে যে সক্ষমতা আছে আমরা তার পরিপূর্ণ ব্যবহার করেছি।

প্রথম আলো : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে তরুণ যুবকদের জড়ো করা হয় এবং মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। বিষয়টি কি সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল? নজর এড়িয়ে না গেলে এতটা সময় ধরে দুষ্কৃতকারীরা জমায়েত হওয়ার সুযোগ পেল কী করে ?

মো. কামরুজ্জামান : ফেসবুকে অপপ্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। অবস্থার অবনতি হচ্ছে বুঝতে পেরেই পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। যদি এ ঘটনা পুলিশের নজর এড়িয়ে যেত তাহলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো না। আপনারা জানেন, দেশের ৭টি জেলা বাদে বাকি ৫৭টি জেলায় এই প্রতিরোধমূলক আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

প্রথম আলো : কুমিল্লার ঘটনার পর পরবর্তী তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি হামলা হতে পারে এই পূর্বাভাস পায়নি?

মো. কামরুজ্জামান: কুমিল্লার ঘটনার পর সারা দেশেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেবল ৭টি জেলায় এটা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্বাভাস পেয়েছে বলেই বাকি ৫৭ জেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেসব জায়গায় কোনো অশান্তিও হয়নি। পূর্বাভাস পাওয়ার কারণেই আমরা দেশের অধিকাংশ জায়গাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে পেরেছি। ইতিমধ্যে মোট ১২৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আমরা অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আসামি ধরার অভিযান চলমান আছে।

প্রথম আলো: প্রতিটি ঘটনার পরই গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। দুর্গোৎসবকে ঘিরে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেখানে গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল বলে মনে করেন?

‌মো. কামরুজ্জামান : এটি পুলিশ বাহিনী সংশ্লিষ্ট নয়।

প্রথম আলো: নোয়াখালীর চৌমুহনীসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সময়মতো পুলিশ ও প্রশাসনের সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ কতটা সত্য?

মো. কামরুজ্জামান: ইতিমধ্যে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়েছেন এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করার জন্য। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করায় আইনগত বাধা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন