বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো : কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ে পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই স্থানীয় এক ব্যক্তি লাইভ করেছেন। এতে করে কি পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে মনে করেন?

নীনা গোস্বামী: পুলিশ কর্মকর্তার যথেষ্ট ক্ষমতা। আমরা দেখলাম তাঁর সামনেই লাইভ হলো। ওনার উচিত ছিল তখনই লাইভটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া। কে মণ্ডপে কোরআন শরীফ রেখেছেন সেটা তদন্ত করে বের করা জরুরি। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে দরকার ছিল লাইভটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া, যেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা না ঘটে। আমি বলব পুলিশ তার দায়িত্ব এ ক্ষেত্রে ঠিকভাবে পালন করেনি।

প্রথম আলো : ফেসবুক বা ইউটিউবে কোনো আধার একবার কেউ শেয়ার করলে সেটি প্রত্যাহারে ওই সব প্ল্যাটফর্মকে জানাতে হয়। তারা ক্ষতিকর মনে করলে তবেই প্রত্যাহার হয়। এটা সময়সাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কি করণীয়?

নীনা গোস্বামী : সহিংসতার আশঙ্কা আছে যেখানে সেখানে এ ধরনের বক্তব্য, অডিও বা ভিডিও যেন কেউ আপলোড করতে না পারে সে বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকেই। এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে দর-কষাকষির একটা সম্পর্কে যেতে হবে। কিন্তু আমি এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করতে চাই, এতে করে আবার বাক্‌স্বাধীনতা হরণের উদ্যোগ যেন না নেওয়া হয়। শুধুমাত্র ঘৃণাসূচক আধারের ক্ষেত্রেই এই দর-কষাকষিটা করতে হবে।
পুলিশ বলছে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারিতে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করেছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে সহিংসতা ছড়াল কি করে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কি জনবল, যন্ত্র বা প্রশিক্ষণের ঘাটতি আছে? এগুলো এখন তাদের খতিয়ে দেখা দরকার।

প্রথম আলো : পুলিশ বলছে তৎপর থাকার কারণেই হামলা সাত জেলার মধ্যে ছিল, বাকি ৫৭টিতে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি...

নীনা গোস্বামী: মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসেবে সাতটি জেলায় হামলার তীব্রতা ছিল বেশি, কিন্তু হামলা হয়েছে ২২টিতে। তৎপরতা যথেষ্ট না হওয়াতেই এমনটা ঘটেছে। তার চেয়েও বড় কথা, এখনো যে ভুক্তভোগীরা খুব ভালো আছেন বিষয়টা এমন না। তাঁরা এখনো নিরাপদ বোধ করছেন না।

প্রথম আলো: পুলিশ বলছে পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল? আপনার কি মনে হয়?

নীনা গোস্বামী : পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা আছে, তাদের পূর্বাভাস পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রশ্ন হলো পূর্বাভাস পেলে কেন তিন দিন ধরে হামলা চলল। হয়, পূর্বাভাস দেওয়ার দায়িত্ব ছিল যাদের তারা ব্যর্থ হয়েছে। নতুবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই।
আরও একটা বিষয় আমি যোগ করতে চাই। এই ঘটনায় যেটা পরিষ্কার সেটা হলো রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কম। শুধু সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা থাকলেই তো হবে না। রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা কতটা করছে সেটাও দেখা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিদের সব ধর্মের মানুষকে সুরক্ষা দিতে যারা তাদের নির্বাচিত করছে তাদের কাছে, দলের কাছে এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কম না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন