পাবনা জেলার বাজারগুলোয় পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে চাষিরা খুশি হলেও হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। নতুন পেঁয়াজ উঠতে বিলম্ব ও হরতাল-অবরোধে পরিবহন সংকটে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
জেলায় বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলায়। এ দুই উপজেলার পেঁয়াজচাষিরা জানান, বীজ থেকে উৎপাদিত পেঁয়াজ (স্থানীয় ভাষায় হালি পেঁয়াজ) বাজারে আসার আগে ‘মূল কাটা’ নামে আপৎকালীন একধরনের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। মৌসুমের শুরুতে কৃষক যখন জমিতে পেঁয়াজের বীজ রোপণ করেন, তখন এই আপৎকালীন পেঁয়াজ বাজারের চাহিদা মেটায়। চলতি বছর মূল কাটা পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে মৌসুমের শুরুতে বাজারে পেঁয়াজের দামও স্থিতিশীল ছিল। ১০-১৫ দিন আগেও স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।
গত রোববার জেলার সুজানগর উপজেলা সদরের পাইকারি পেঁয়াজ বাজারে গেলে ব্যবসায়ীরা বলেন, তাঁরা ১৫ দিন আগেও প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কিনেছেন। কিন্তু বর্তমানে মণপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা করে কিনতে হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সকালে পাবনা জেলা সদরের বড় বাজার ও এ আর কর্নার পাতাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি।
বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন বিলম্বিত হয়েছে। এদিকে আমদানিও কম। ফলে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।
সাধারণ কয়েকজন খুচরা ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হঠাৎ এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় তাঁরা বিপদে পড়েছেন। সংসার খরচে টান পড়েছে তাঁদের।
পাইকারি ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, মৌসুমের এ সময়ে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি হয়। কিন্তু চলমান হরতাল-অবরোধে পরিবহন সংকটে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রয়োজনের তুলনায় বাজারে পেঁয়াজ কম কিন্তু চাহিদা বেশি। ফলে দাম বেড়েছে।
সুজানগরের চর মানিকদিয়ার গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আকুব্বর আলী বলেন, ‘দাম বাড়া ও কমার কারণ কইতে পারুম না। তয় অ্যাত দিন দাম কম ছিল, এহন বাড়িছে। আমরা খুশি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ বি এম মোস্তাফিজার রহমান বলেন, জেলার নয় উপজেলায় চলতি বছর ৪৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। শিগগির পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন