default-image

নীলফামারীর সৈয়দপুরে এবার রসুন আবাদ করে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। মৌসুমের শুরুতেই প্রতি কেজি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করে হাসিমুখ দেখা গেছে তাঁদের। অপরদিকে উচ্চফলনশীল পেঁয়াজের চাষ করে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার দেখা যায়, সৈয়দপুরসহ পাশের জেলা দিনাজপুরের খানসামা, চিরিরবন্দর, রানীরবন্দর, কাঁচিনিয়া, পাকেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিতে রসুনের আবাদ করা হয়েছে। ওই অঞ্চলের কৃষকেরা কয়েক বছর আগেও ইরি-বোরো, ধান, গম, সরিষা, কালাই ও শাকসবজির আবাদে অভ্যস্ত ছিলেন। এসব আবাদে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে ফসলের রোগ-বালাইও সামাল দিতে হতো কৃষকদের। চড়া দামে বাজার থেকে সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের খরচ বাড়ত কয়েক গুণ। সেই তুলনায় উৎপাদিত ফসলের দাম না পেয়ে ভর করত হতাশা।

default-image

এই অবস্থায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকেরা জমিতে মসলাজাতীয় ফসল রসুন চাষে উৎসাহী হন। এখন যেদিকে চোখ যায় শুধু রসুনের খেত। কেউ শ্রমিক লাগিয়ে খেতের রসুন তুলছেন, কেউবা বেশি দামের আশায় সংরক্ষণের জন্য রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে রসুনের ফলন হয় ২২ থেকে ২৭ মণ। মৌসুমে যার বাজারমূল্য ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এক বিঘা জমিতে রসুন আবাদে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, নিড়ানিসহ মোট খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, এবার রসুনের দাম পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু কোনো কোনো বছর বাজার এত খারাপ থাকে যে তখন উৎপাদন খরচও ওঠে না। তাই রসুন আবাদ অনেকটা জুয়া খেলার মতো।
এদিকে যেসব কৃষক পেঁয়াজ চাষ করেছেন, তাঁরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তাঁদের পেঁয়াজ চাষ করতে খরচ হয়েছে ২৫-২৬ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ মণ। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৬ টাকায়; যার বর্তমানে বাজারমূল্য ১৬ হাজার ২০০ টাকা। তুলনামূলকভাবে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় পেঁয়াজচাষিরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিরিরবন্দরের কৃষক লুৎফর রহমান।
সৈয়দপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হোমায়রা মণ্ডল বলেন, এ বছর সৈয়দপুরের পাঁচ ইউনিয়নে ২৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে খরচ বেশি হয়েছে। অনুরূপ জমিতে রসুনও চাষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন