বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লড়াই করেন। আর সেই লড়াইয়ে এবার পেট্রলবোমার সংস্কৃতি চালু হয়ে গেল। এখান থেকে বের হওয়া কঠিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফ্লিক্ট রিসার্চ গ্রুপ (সিআরজি) এবং ঢাকার মাইক্রো গভর্নেন্স রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (এমজিআর) গতকাল রোববার এই সেমিনারের আয়োজন করে। আয়োজকেরা জানান, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার গতি-প্রকৃতি ২০০২-২০১৩’ শীর্ষক একটি গবেষণা করেছেন ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক বার্ট সুকেনস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলাম। ওই গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য জানাতেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারের সঞ্চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এই যে দেশে পেট্রলবোমার সংস্কৃতি চালু হলো, সেখান থেকে বের হওয়া কঠিন। আর সহিংসতা দিয়ে কখনো শান্তি আসে না। অহিংস উপায়েই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে কয়েকটি বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে একমত হতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কিংবা ৫ জানুয়ারি ধরনের নির্বাচন এখানে কাজ করবে না। বিকল্প কিছু একটা বের করতে হবে। আবার ১৯৭১, জাতির জনক—এসব বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে। কোনো ঘৃণা ছড়ানো যাবে না।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের দুই জোট বা দলের রাজনীতিবিদদের পরস্পরের প্রতি আস্থা নেই। বরং পরস্পরকে তাঁরা নির্মূল করতে চান। এখন রাজনীতি হচ্ছে ক্ষমতার রাজনীতি। যিনি জয়ী হবেন তিনিই যেন ক্ষমতায় যাওয়ার লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। আর ক্ষমতায় যাওয়া মানেই যেন অবাধ সুযোগ। আর যে হারবে তাঁর জন্য ঝুঁকি আর বঞ্চনা।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিবিদেরা আমাদের ছেলেমেয়েদের শেখাচ্ছেন রাজনীতি মানেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ। রাজনীতি মানেই পরীক্ষা বন্ধ। রাজনীতি মানেই পেট্রলবোমা। এসব কারণে কিন্তু তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিবিমুখ হয়ে যাবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজনীতিকে সবার আগে সহিংসতামুক্ত হতে হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, তানজিমউদ্দিন খান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাব্বির আহমেদ, আইনুল ইসলাম ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাহাদুল আনাম।
গবেষণার প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে বার্ট সুকেনস জানান, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, ইত্তেফাক ও ইনকিলাব এই চারটি পত্রিকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ১৮ হাজার ৩০৮টি প্রকাশিত খবরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন তঁারা। ওই তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সবচেয়ে কম সহিংসতা হয়েছে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে। আর ২০০৬ ও ২০১৩ এই সময়ে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন