পূর্বাচলে প্রাণীদের হাসপাতাল

পোষা প্রাণীরাও পাচ্ছে উন্নত চিকিৎসা

বিজ্ঞাপন

দরজায় রেজিস্টার খাতা হাতে দাঁড়িয়ে একজন রোগীর নাম ধরে ডাকছেন। রোগীর নাম তুলতুল। কাজী আশিক আল রশিদ তুলতুলকে নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকলেন। থার্মোমিটারে তুলতুলের জ্বর মাপা হলো। চিকিৎসক হাসি মুখে জানালেন, তুলতুলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক আছে, চিন্তার কিছু নেই। এরপর একে একে তুলতুলের বাবা-মা ও ভাইবোনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেন চিকিৎসক।

তুলতুল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিড়াল। তাদের আনা হয়েছে পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় (পূর্বাচল নিউ টাউনের ১৮ নম্বর সেক্টরের ১১৪ নম্বর সড়ক) ‘টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ নামের হাসপাতালে। বিড়ালগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর নিশ্চিন্ত হলেন নিকুঞ্জ-২-এর বাসিন্দা আশিক আল রশিদ।

গুলশান-১-এর ব্যবসায়ী দিশা ইসলাম চিন্তিত মুখে বসে ছিলেন হাসপাতালটির অভ্যর্থনাকক্ষে। জানালেন, তাঁর সাতটি কুকুর। এর মধ্যে দুটি অসুস্থ। সেগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছিলেন। এখন এসেছেন মেডিকেল রিপোর্ট নিতে।

হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত একটি কুকুরকে নিয়ে এসেছেন একজন। একজন এসেছেন বড় দুটি কুকুর নিয়ে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানালেন, দিনে ১০ থেকে ১২টি কুকুর ও বিড়াল চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে।

গত ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উদ্যোগে এ পোষা প্রাণীর হাসপাতালটি চালু হয়েছে। বর্তমানে একতলা  হাসপাতাল ভবনটি ভবিষ্যতে ১০তলা ভবন হবে। এতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

>পোষা প্রাণীদের স্বল্প খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। অনেকে তঁাদের পোষা প্রাণী নিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশ ঝকঝকে তকতকে। সারাক্ষণ পরিষ্কার করছেন কর্মীরা। দরজার বাইরে জুতা রেখে হাসপাতালে ঢুকতে হয়। অস্ত্রোপচারকক্ষ, যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য অটোক্লেভ মেশিন, আলট্রাসাউন্ড মেশিন, এক্স-রে মেশিনসহ অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতি দিয়ে হাসপাতালটিতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা হচ্ছে। কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, গিনিপিগসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণীর চিকিৎসা হবে এ হাসপাতালে। তবে এখন পর্যন্ত কুকুর ও বিড়াল বেশি আসছে। তবে যাঁরা তাঁদের অতি আদরের পোষা প্রাণীটিকে হাসপাতালে আনছেন তাঁরা চিকিৎসার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেন। হাসপাতালটির অবস্থান মূল শহর থেকে অনেক দূরে হলেও ভালো চিকিৎসা পাবেন বলেই এখানে আসছেন বলেও জানালেন।

default-image

বর্তমানে হাসপাতালে দুজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসকসহ ২২ জন কর্মরত। চিকিৎসক এবং শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা আছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা প্রতি সপ্তাহে এসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

এখানকার চিকিৎসক মীর মোহাম্মদ আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পোষা প্রাণীর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং গবেষণার জন্য এ হাসপাতাল যাত্রা শুরু করেছে। অনেক সময় পোষা প্রাণী থেকে বিভিন্ন রোগ মানুষের শরীরে ঢুকে যাচ্ছে। তাই যথাযথ পরিচর্যা ও চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণা হওয়া জরুরি।

আফজাল হোসেন জানালেন, আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে এ হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এ হাসপাতাল থেকে যে আয় হবে, তা দিয়েই হাসপাতালটি পরিচালনার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে হাসপাতালটি শুক্রবার বন্ধ থাকে। শনিবার বেলা একটা পর্যন্ত খোলা থাকে। সরকারি ছুটিতে অর্ধেক দিন খোলা থাকে। এর বাইরে অন্যান্য দিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত খোলা থাকে।

আরেক চিকিৎসক আবদুল মান্নান জানালেন, খুব বেশি দিন হয়নি হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করেছে। সে তুলনায় যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা বেশ ভালো। আর এখানে চিকিৎসার খরচও অনেক কম। অস্ত্রোপচারে সর্বোচ্চ খরচ ৫ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন