হবিগঞ্জের গুঙ্গিঁয়াজুরী হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রায় চার বছর ধরে আটকে আছে। প্রকল্প প্রণয়নের জন্য সমীক্ষা শেষ হওয়ার চার বছরেও প্রকল্প গ্রহণ করা যায়নি। এ কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হবিগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, বানিয়াচং ও সদর উপজেলার ৪২ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে গুঙ্গিঁয়াজুরী হাওর। এ হাওরের ওপর দিয়ে দুটি নদী ও অনেক খাল-বিল বয়ে গেছে। বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ হাওর এলাকা তিন থেকে দশ ফুট পানির নিচে ডুবে থাকে। হাওরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত করাঙ্গী ও বীজনা নদীতে শুকনো মৌসুমে পানি অনেক কমে যায়। খাল-বিল শুকিয়ে যায়। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে চাষাবাদ করতে হয় কৃষকদের। ফলে এক ফসলের ওপর নির্ভর করেন এখানকার কৃষকেরা। ওই ফসলও অনেক সময় আগাম বন্যায় ডুবে যায়।
এ অবস্থায় কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রকল্প গ্রহণের জন্য এনভায়রনমেন্ট জিওগ্রাফি অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস), ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেড ও ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সমীক্ষা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়। তারা এক বছরে কাজ শেষে ২০১১ সালের ২৮ জুন সমীক্ষা প্রতিবেদন পাউবোর সদর দপ্তরে জমা দেয়। এ বাবদ সরকারের ব্যয় হয় ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই ডিপিপি প্রণয়নের জন্য পাউবোর হবিগঞ্জ কার্যালয়কে সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সমীক্ষার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সমীক্ষায় গাঙ্গদার বাজার থেকে করাঙ্গী পর্যন্ত খাল খনন, খালের মাটি দিয়ে হাওরের পূর্ব সীমানায় বাঁধ নির্মাণ, প্রকল্পের ৪২ বর্গমাইলের পুরোটাই বেড়িবাঁধের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের ছয়টি ছড়ার পানি হাওরে ঢোকার ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।
সমীক্ষায় বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলার উল্লিখিত চার উপজেলার কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। জমিগুলো এক থেকে তিন ফসলিতে রূপান্তর হবে। বছরে ১ লাখ ৪০ হাজার মণ ধান ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্যসহ মোট খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে প্রায় দুই লাখ মণ। সরকারি সংগ্রহমূল্য অনুসারে এ ধানের দাম প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৮৮ কোটি টাকা।
পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক ও সচিব জাফর আহমেদ খানসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গত বছরের ১৫ অক্টোবর গুঙ্গিঁয়াজুরী হাওর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে সাংবাদিক ও সুধীজনদের জানান, শিগগিরই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
গত বছরের ২৩ জুন হবিগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, গুঙ্গিঁয়াজুরী হাওর প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করা হবে।
বাহুবলের রোয়াইল গ্রামের কৃষক ও মৎস্যজীবী শ্রীকান্ত সরকার বলেন, ‘প্রকল্পের সমীক্ষা শেষ হয়েছে চার বছর আগেই। পাশাপাশি পানিসম্পদমন্ত্রী এলাকা ঘুরে গেছেন। আমরা ধরে নিয়েছিলাম কাজ শুরু হবে শিগগিরই।’ পাউবো হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শাহিদুল আলম বলেন, এলাকার সবার পরামর্শক্রমে কাজ চলছে। বর্তমান ‘দুর্যোগের’ কারণে ডিপিপি পাঠাতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তিনি শিগগিরই তা পাঠাতে পারবেন বলে আশা করছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন