গণমাধ্যমে প্রকাশিত সবুজবাগ থানা এলাকায় মাহবুব হাসান সুজন নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে পুলিশ ১০ জানুয়ারি তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ সময় মাহবুব হাসান সুজনের ভাই মো. শাকিল খান তাঁর ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার স্থান সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন, যা এর আগে রুজুকৃত সবুজবাগ থানার জিডিতে (জিডি নং-৫৩৩, তাং-১১/১২/২০১৩ খ্রি.) উল্লেখ নেই। এ ব্যাপারে একটি লিখিতভাবে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের জন্য পুলিশ অনুরোধ করলে তিনি বা তাঁর বাবা তা দিতে অস্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে মিথ্যাচার করেছেন এবং বলেছেন, পুলিশ তাঁর বাবার কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অপরদিকে একই ঘটনায় মাহবুব হাসান সুজনের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া কাজী ফরহাদের বোন ও ভগ্নিপতি নিখোঁজ সংক্রান্তে বিস্তারিত তথ্য লিখিতভাবে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন।

গণমাধ্যমে উল্লেখিত অপর ঘটনায় দেখা যায়, পল্লবী এলাকার নিখোঁজ তরিকুল ইসলাম সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে পুলিশ তাঁর বাসায় যায় এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের কপি প্রদানের জন্য অনুরোধ করে। পরবর্তী সময়ে তরিকুল ইসলামের স্ত্রী তাঁর শ্বশুরসহ থানায় আসেন। ওই সময় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) থানার বাইরে থাকায় তাঁকে কিছু সময় থানায় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু তিনি গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে থানায় বসিয়ে রাখে। অথচ অফিসার ইনচার্জ থানায় আসা মাত্র তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এর ধারাবাহিকতায় তাঁরা ১৩ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত আছে জানালে পুলিশ তাঁর বাসা থেকে তা সংগ্রহ করে।

ডিএমপি যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান বা তদন্ত সমাপনান্তে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা তদন্ত বা অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ। কিন্তু পুলিশের কার্যক্রমকে হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করা এবং এ সম্পর্কে একতরফা বিবৃতি প্রদান করা পুলিশের তদন্তকাজে অসহযোগিতার নামান্তর।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অতিরঞ্জিত, বিকৃত এবং মনগড়া তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো। একই সঙ্গে পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হলো।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

গুম হওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বজনদের জেরা, চাপ ও হয়রানি করার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের মঞ্চ ‘মায়ের ডাক’ ও মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সেই বিবৃতি, ভুক্তভোগী বিভিন্ন পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্রের বক্তব্যসহ প্রথম আলোর প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।