default-image

দেয়ালে দেয়ালে টাঙানো প্রার্থীদের ছবিসহ ডিজিটাল ব্যানার। চলছে ঘরোয়া সভা। হাতমাইকেও চলছে প্রচারণা। অনেকে দল বেঁধে পছন্দের প্রার্থীরা জন্য ভোট চাইছেন। এই চিত্র এখন চট্টগ্রাম আদালতপাড়ার। জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণা চলছে জোরেশোরে।
আগামী মঙ্গলবার জেলা আইনজীবী সমিতির মিলানায়তনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কারণে এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে এর প্রভাব পড়েনি নির্বাচনী প্রচারণায়।
এবার প্রথমবারের মতো তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত মুক্তিযুদ্ধ সপক্ষের সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধ সপক্ষের দুর্নীতিবিরোধী সমমনা আইনজীবী সংসদ এবং বিএনপি-জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ৪৯ জন প্রার্থী ১৯টি পদে লড়ছেন।
আইনজীবীরা জানান, তিন জোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। আবার কয়েকজন প্রার্থী নিজ সততা ও ভাবমূর্তির কারণে প্যানেলের বাইরের সমর্থকদের ভোটও পাবেন। দলীয় আনুগত্যের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজকে প্রাধান্য দিতে পারেন ভোটাররা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। ভোটারদের মধ্যেও প্রার্থী নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা। প্রার্থীরা দল বেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। কেউ ভোট চাইছেন, কেউ শুধু দোয়া। ভোটাররাও কাউকে নিরাশ করছেন না। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কুলশ বিনিময় করছেন। বিচারালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করা, আইনজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে আলাপে জানা যায়, ভোটাররা কোনো কিছু বুঝতে দিচ্ছেন না প্রার্থীদের। ফলে ভোটের হিসাব-নিকাশ এখন করা যাচ্ছে না। শঙ্কায় রয়েছেন শেষ মুহূর্তে ব্যালটে সিল নিজের পক্ষে পড়ে কি না। গত কয়েক বছর হরতাল-অবরোধ না থাকায় আইনজীবীরা সাধারণ আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বিকেলের দিকে প্রচারণায় নামতেন। কারণ, প্রার্থী–ভোটার সবাই মামলা পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বাধীন চলমান হরতাল-অবরোধে এক মাস ধরে মক্কেলরা কম আসায় বেশি ব্যস্ত ছিলেন না আইনজীবীরা। আর হরতালের দিন বারের নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম আদালতে কোনো মামলার শুনানি হয় না। ফলে প্রার্থীরা পুরো সময় প্রচারণা চালাতে পেরেছেন।
তিন জোটের মধ্যে কোন জোট ভোটারদের মন জয় করতে পেরেছে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। ওই দিন রাত ১০টার পরই জানা যাবে কারা পাচ্ছেন সমিতির আগামীর নেতৃত্ব। তবে মঙ্গলবার ২০- দলীয় জোটের হরতাল হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন ভোটার ও প্রার্থীরা।
নির্বাচন কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম মহানগরের সরকারি কৌঁসুলি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে মঙ্গলবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে রোববার (আজ) বেলা একটায়। নির্বাচনে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’
নির্বাচনে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে মোহাম্মদ মুজিবুল হক, মুক্তিযুদ্ধ সপক্ষের দুর্নীতিবিরোধী সমমনা সংসদ থেকে আখতার কবির চৌধুরী এবং বিএনপি জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন চৌধুরী লড়ছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে সমন্বয়ের মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সমমনার এস এম জাহেদ বীরু ও ঐক্য পরিষদের এনামুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন