বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনা প্রণোদনার নামে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে দিনমজুর কারাগারে—গণমাধ্যমে আসা এমন প্রতিবেদন যুক্ত করে চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টে পাঁচজনের জামিনের জন্য আবেদন করা হয়। এর আগে ওই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে বিফল হন তাঁরা।

অবৈধ বিল ও অ্যাডভাইস দাখিলের মাধ্যমে জালিয়াতি করে সোনালী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গত ১ জুলাই ৯ জনের নামে ওই মামলাটি হয়। সোনালী ব্যাংক শ্রীপুর থানা হেডকোয়ার্টার শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক শ্রীপুর থানায় ওই মামলা করেন।

আদালতে জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে ফি ছাড়া শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যে এখানে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা আসলে ভুক্তভোগী। আবেদনকারী সবাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ও গরিব মানুষ। তাঁদের বলা হয়, করোনা প্রণোদনা দেওয়া হবে। তাঁদের বাড়ি কুড়িগ্রামে। করোনা প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলে তাঁদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়।

আদালত বলেন, মামলা তো হয়েছে গাজীপুরে। কত দিন ধরে তাঁরা কারাগারে আছেন? তখন শিশির মনির বলেন, গত ৩ জুলাই থেকে জেলে আছেন। তাঁদের কোনো অবলম্বন নেই। আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাবে লাখ লাখ টাকা যাঁরা পাঠিয়ে দিয়েছেন ও পাঠানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

একপর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত বলেন, এটি ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের ঘটনা। তখন আদালত বলেন, গরিব মানুষের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (হিসাব) করে যাঁরা লুটপাট করেছেন, তাঁদের ধরেন। তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গরিব মানুষের নামে হয়েছে কি না, এটি প্রমাণের বিষয়।

পরে আদালত রুল দিয়ে এক বছরের জামিন দেন। এর ফলে ওই পাঁচ দিনমজুরের কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী শিশির মনির।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন