default-image

আপনি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর ঢাকার একাংশ দক্ষিণ সিটির মেয়র। এটি নিশ্চয়ই আপনার জন্য বিব্রতকর। দায়িত্বে আসার পর গত আট মাসে বায়ুদূষণ রোধে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মেয়র: স্বীকার করব, বায়ুদূষণ রোধের বিষয়টা আমাদের অগ্রাধিকার কার্যক্রমে নেই। তবে আমাদের মহাপরিকল্পনায় সেটা আছে। বায়ুদূষণের সঙ্গে অনেক কিছু সম্পৃক্ত। বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ ঢাকা শহরে যে নির্মাণ কার্যক্রমগুলো চলছে, সে কারণে ধুলা সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের কাজ করার বার্ষিক সূচিটি কার্যকর করতে না পারলে বায়ুদূষণের বিষয়টা আমাদের পীড়া দেবে।

বায়ুদূষণ রোধের বিষয়টা কি অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা জরুরি ছিল না?

মেয়র: সবকিছু নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত এটি আসলে কার্যকর হবে না। ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭টা-৮টা পর্যন্ত আমরা পানি ছিটাচ্ছি। শুধু পানি ছিটিয়ে বায়ুদূষণ রোধ সম্ভব নয়। মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। তার বাস্তবায়ন শুরু হলে বায়ুদূষণ রোধে সমন্বিতভাবে কাজ করা যাবে।

বিজ্ঞাপন
  • মশক নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • ঢাকাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বেওয়ারিশ জন্তু রাস্তায় রাখা যাবে না।

  • যেখানে যখন যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • পরামর্শকেরা সরেজমিন যাচাই না করেই পরামর্শ দিচ্ছেন।

আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর মশা নিধনের উদ্দেশ্যে গত জুন মাসে খিলগাঁও, রমনা পার্কের লেকসহ তিন জায়গায় হাঁস ছেড়েছেন। তদারকির অভাবে রমনার অনেক হাঁস মরে গেছে। সাবেক মেয়র মশা মারতে বিভিন্ন নালায় গাপ্পি মাছ ছেড়েছিলেন। অনেকেই এগুলোকে লোকদেখানো কর্মসূচি বলে মনে করেন?

মেয়র: মশক নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। লার্ভিসাইডিংকে (মশার লার্ভা মারার ওষুধ ছিটানো) আমরা এক ঘণ্টার পরিবর্তে চার ঘণ্টা করেছি। অ্যাডালটিসাইডিং (পরিণত মশা মারার কীটনাশক) মাগরিবের সময় এক ঘণ্টা ছিল। সেটা এখন বেলা আড়াইটা থেকে শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্বব্যাপী যেসব কৌশল নেওয়া হয়, আমরা তা নিয়েছি। আমরা জলাশয়ে তেলাপিয়া আর হাঁস ছাড়তে আরম্ভ করেছি। যে মাছটি কার্যকর তা হলো তেলাপিয়া। গাপ্পি মাছ কার্যকর হলেও বিদেশ থেকে আনতে হয়। তেলাপিয়া দেশি মাছ। আমরা আবেদন করেছি, হাঁস ছাড়ার পর যাতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের তরুণেরা এদের দেখভাল করার সমষ্টিগত উদ্যোগ নেন। রমনা লেকে যেসব হাঁস ছেড়েছিলাম, তার কিছু মারা গেছে পানিদূষণের কারণে। আমরা আবার নতুন করে হাঁস ছেড়েছি। এটা লোকদেখানো নয়, বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম।

কয়েকটি বিষয়ে আপনি উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত দেখা গেল নিজেই সেখান থেকে সরে গেছেন। পরিকল্পনা ছাড়া এসব উদ্যোগ…

মেয়র: না, না, কোনোটা থেকেই আমি সরিনি। বলেন দেখি, কোনটা কোনটা।

বেওয়ারিশ কুকুর স্থানান্তর, রাত আটটার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখা, ঝুলন্ত তার সরানো, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলা যায়। পরিকল্পিতভাবে শুরু না করার কারণেই কি শেষ পর্যন্ত সরে আসতে হয়েছে?

মেয়র: কোনো কোনো সময় কিছু বিষয় বেশি অগ্রাধিকার পাবে, কোনোটি একটু কম। বেওয়ারিশ কুকুর স্থানান্তর একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ নিয়ে বিভিন্ন এনজিওর সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। শুধু কুকুর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করলেই কমবে না। দক্ষিণ সিটিতে প্রায় ৪৮ হাজার কুকুর আছে। যদি দিনে ১০০ করেও কুকুর সরানো হয়, তাহলে লাগবে ৪৮০ দিন। আমরা কুকুর বন্ধ্যত্বকরণ কার্যক্রমও আবার চালু করছি। তবে ঢাকাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বেওয়ারিশ জন্তু রাস্তায় রাখা যাবে না।

আর যারা এত দিন তার দিয়ে জঞ্জাল করে ফেলেছে, তারা এ উপলব্ধিটুকু করতে পেরেছে যে আর ওপর দিয়ে তার নেওয়ার সুযোগ নেই।

ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযানও চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। চালকদের অনেকে আবেদন করেছেন যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে তাঁরা পায়ে চালিত রিকশায় পরিণত করতে চান। ২৭ হাজারের মতো এভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপরও যাঁরা অবৈধভাবে নিবন্ধনের বাইরে, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।

আমি একটা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছি, রাত আটটার মধ্যে দোকান বন্ধ করে দিতে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে যখন আমাদের আলাপ হচ্ছে, তখন তাদের কাছে নিবেদন করছি। প্রয়োজন হলে আমরা হয়তো আরও কঠোর হব। সব শহরেরই একটা সময়সীমা থাকে। কোনো কোনো শহর সন্ধ্যা ছয়টার সময় বন্ধ হয়ে যায়, কোনো শহর আটটা বা নয়টায়। সেই প্রেক্ষাপটেই এই নিবেদনটুকু করেছি।

গত নভেম্বরে আপনি বলেছিলেন, প্রকল্পের টাকা যাতে উইপোকা না খায়। আগে কি উইপোকা খেত?

মেয়র: এটা তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, যেটাতে আমি উৎসাহিত হয়েছি।

টাকা যাতে নয়ছয় না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য বক্তব্য রাখার বাইরে আলাদা নজরদারির কোনো ব্যবস্থা কি আছে?

মেয়র: আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর নজরদারিটা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা প্রশাসনিক সংস্কারে হাত দিয়েছি। যেখানে যখন যে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই বার্তাটা আমরা পরিষ্কার করতে চাই যে এখানে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। আগে একটা ধারণা ছিল, প্রতিটি ডেস্কে, প্রতিটি দপ্তরে, প্রতিটি টেবিলে একটা খরচ সম্পৃক্ত থাকে।

আমরা কি তাহলে বলতে পারব সিটি করপোরেশনের কোনো টেবিলে বাড়তি খরচ কাউকে করতে হবে না?

মেয়র: এটা এখন দাবি করতে পারি। এর নজিরও পাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

এটা তো প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কথা। ঠিকাদারদের মাধ্যমে করপোরেশন রাস্তায় যে কাজ করে, তার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে।

মেয়র: আমরা এখন প্রতি সপ্তাহে প্রকৌশল বিভাগকে নিয়ে বসছি। শুধু প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে নয়, প্রকল্প তৈরির সময় নজরও দিতে। আমরা কোনো বালিশকাণ্ড চাই না। অর্থ বাঁচলে আমার সক্ষমতা বাড়বে। তাই করোনা মহামারির এই ছয় মাসের মধ্যেও ৩৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করেছি। এ কারণে এখন আমরা বীরদর্পে বলতে পারি, নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করব। কারও অপেক্ষায় থাকতে হবে না। কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না। প্রকল্প কবে পাস হয়ে আসবে, তারপর কাজটা করব—এ অবস্থায় আর থাকতে চাই না। জলাবদ্ধতা কমাতে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ আরম্ভ করে দিয়েছি। আমার যদি এটা নিয়ে বসে থাকতে হতো, তাহলে দুবছর পর সে কাজটা হতো। অপচয় কমে গেলে কাজের মান বাড়ে।

প্রায় দুবছর আগে এক অনুষ্ঠানে সাবেক মেয়র দাবি করেছিলেন, কলাবাগান এলাকায় কোনো রাস্তাঘাট ভাঙা নেই। ওই অনুষ্ঠানেই স্থানীয় কাউন্সিলর বললেন, তাঁর এলাকায় সব রাস্তাই খারাপ। এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটার সম্ভাবনা আছে কি?

মেয়র: দপ্তরে বসে লিখে দেওয়া যায়, কাজ সন্তোষজনক হয়েছে, এক শ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবতা সেটা নয়। সরেজমিন পরিদর্শন না করলে বিষয়গুলো জানা যায় না।

সব কাজে মেয়রকেই সরেজমিনে যেতে হলে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজটা কী?

মেয়র: এটা আসলে দীর্ঘদিনের নিয়ম হয়ে গেছে। এখন নতুনভাবে তদারক করা না হলে এত দিনের অভ্যাস থেকে যাবে। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরামর্শকদের ওপর নির্ভর করি। দুঃখজনকভাবে দেখছি, পরামর্শকেরা সরেজমিন যাচাই না করেই পরামর্শ দিচ্ছেন। শুধু সিটি করপোরেশন নয়, আমার মনে হয় সব ক্ষেত্রেই এটা হচ্ছে। এটা খুব ক্ষতিকর।

ওয়াসার কাছ থেকে আপনারা খাল-নালা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছেন। আপনারা কি এমন বার্তা দিতে পারেন যে আগামী বর্ষায় ঢাকায় জলাবদ্ধতা হবে না?

মেয়র: সবাই আসলে সুনির্দিষ্ট সময় চায়। সুনির্দিষ্ট সমাধান চায়। আমি এটুকু বলতে পারি, আমরা যথাসাধ্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। লক্ষ করবেন, প্রথমে আমরা দীর্ঘদিনের দখল করা খাল পুনরুদ্ধারের কাজ করছি। ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ঢাকাবাসীকে সুফলটা দেওয়া।

আপনি মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সাংসদ ছিলেন। তখন দুদক নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে গ্রেপ্তার না করায় দুদক চেয়ারম্যানের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বক্তব্যটা কি রাজনৈতিক ছিল? পরে তো আর এ নিয়ে কথা বললেন না।

মেয়র: এখন তো আমি দায়িত্বশীল একটি পদে আছি।

তখনো ছিলেন।

মেয়র: মেয়র হিসেবে আমি কেবল জনপ্রতিনিধিই নই, আমার প্রশাসনিক দায়িত্বও রয়েছে। পুরোনো ব্যাপারে এখন কোনো বক্তব্য দেব না।

মেয়রের পাশাপাশি আপনি একটি ব্যাংকের পরিচালক। সে ব্যাংকে সিটি করপোরেশনের টাকা রাখা নৈতিকভাবে ঠিক কি না?

মেয়র: ব্যাংকে তো আমানত রাখা যায়। আমানত রাখলেই কিন্তু ওই ব্যাংকের মুনাফা হয়ে যায় না। অতিরিক্ত আমানত নিলে ব্যাংকের ক্ষতি হতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নৈতিকতার।

মেয়র: নৈতিকতার কথা কখন আসবে, যদি এ রকম কোনো সুযোগ হয়, আমানত রাখার কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হলাম। ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হওয়ার যদি কোনো সুযোগ থাকে, তাহলে নৈতিকতার বিষয়টা আসবে। সব বেসরকারি ব্যাংকে একই নিয়মে, মানদণ্ডে, একই শর্তে যদি আমানত রাখা হয়, সেখানে তো অনৈতিকতার কোনো কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংক লাভ করলে তার ভাগ তো আপনার কাছেও যাবে, যেহেতু আপনি পরিচালক?

মেয়র: সিটি করপোরেশনের কোনো কিছু এখন পর্যন্ত মধুমতি ব্যাংকের বোর্ডে যায়নি, যেখানে একজন পরিচালক হিসেবে ইনফ্লুয়েন্স (প্রভাবিত) করার কোনো সুযোগ আছে।

সিটি করপোরেশনের বিষয় কি মধুমতি ব্যাংকের বোর্ড সভায় আসা উচিত?

মেয়র: আসেনি। যদি আসত, সেখানে আমি পরিচালক হিসেবে যদি প্রভাবিত করতাম, তাহলে নৈতিকতার বিষয় আসত। এখানে প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে ১০টা ব্যাংক যদি আসে, ১০টা ব্যাংকে আমানত রাখা যাবে। একটু পরিষ্কার করি। আগে কিন্তু এই সক্ষমতাই ছিল না। আমি ৩৪৪ কোটি টাকা আয় করাতে সক্ষমতা হয়েছি। অনেকের বাইরে থেকে ধারণা, সিটি করপোরেশনে অনেক টাকা। বাজেটে পেলাম ২৫০ কোটি টাকা ঘাটতি।

সেটা তো বাংলাদেশের বাজেটেও ঘাটতি থাকে?

মেয়র: সিটি করপোরেশনের মতো সংস্থায় ঘাটতি থাকলে আপনি এখান থেকে আনতে যাবেন, ওখান থেকে শেষ হয়ে যাবে।

সাবেক মেয়র আপনাকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন। আপনারা তো একই দল করেন?

মেয়র: আমি আগের মেয়রের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেব না।

আপনার পক্ষে এবং সাবেক মেয়রের বিপক্ষে মিছিল হলো। মেয়রের ইশারা ছাড়া হয়েছে, এটা কি কেউ বিশ্বাস করবে?

মেয়র: ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এটা করেছেন। এটা দিয়ে তো আমার কিছু আদায় করার নেই। বাংলাদেশের সংস্কৃতি মিছিল-মিটিং করা।

হঠাৎ আপনি কাউন্সিলরদের যুগ্ম সচিবের পদমর্যাদা দিতে উদ্যোগ নিলেন। তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। এর চেয়ে বড় মর্যাদার তো কিছু নেই। তাঁদের কেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার সমান হতে হবে?

মেয়র: আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশির ভাগ কর্মকর্তা উপসচিব পদের। এখন একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর যদি উপসচিবের ওপরের পদে না আসেন, তাহলে সাংগঠনিক কাঠামো সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। প্রশাসনযন্ত্র চালাতে গেলে আমলাতন্ত্র তো আপনাকে মাথায় নিতেই হবে। আমার আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উপসচিব। কাউন্সিলরকে তার ওপরে না দিতে পারলে তো কাজ করাতে পারবেন না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন