প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, সেখানে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আমাদের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, যাঁরা স্থাপত্যবিদ বা প্রকৌশলী, যাঁরা ডিজাইন বা সবকিছু করেন, তাঁদের লক্ষ রাখতে হবে, নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করলে সেখানে অগ্নিনির্বাপণের আধুনিক ব্যবস্থা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি কখনো আগুন লেগে গেলে সেটা নির্বাপণে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জলাধারগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।’

জলাধার ভরাট করে বক্স কালভার্ট করাটা ঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে বসুন্ধরা শপিং মলের টাওয়ার অংশে লাগা অগ্নিকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, একসময় এই পান্থপথের পুরো এলাকাটাই বিল ছিল, যেখানে বসুন্ধরা শপিং মল তৈরি হয়েছে। আজকে সেখানকার জলাধার ভরাট করে বক্স কালভার্ট করে পুরো এলাকার জলাধার বিলীন করে ফেলায় সেদিনের অগ্নিকাণ্ডে আগুন নেভানোর জন্য হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুইমিংপুল থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়েছে।

দুর্গত এলাকায় যেন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারে, সে জন্য রাস্তার প্রশস্ততার পাশাপাশি পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ফায়ার সার্ভিসের এখন ২০ তলা পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা রয়েছে। ক্রমেই এই সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বহুতল ভবন নির্মাণের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সবাইকে নিশ্চিত হয়েই নির্মাণ-পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন। এ জন্য নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়া আয়োজন ও বহুতল ভবনে খোলা বারান্দা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের আধুনিকায়ন ও নবনির্মিত ৪০টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওপর একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন